কয়েক বছর ধরেই দলের ভিতরে মদন মিত্রকে ব্রাত্য করে রেখেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার তাকেই সামনে টেনে নিলেন। আজ তৃণমূলের ‘দুঃসময়ে’ সেই মদন মিত্রকে বড় দায়িত্ব দিলেন মমতা। তৃণমূলের দমদম সাংগঠনিক জেলার সভাপতি হলেন মদন। এতদিন তৃণমূলের দমদম সাংগঠনিক জেলা বলে কিছু ছিল না। এবার দলের সেই সাংগঠনিক জেলা তৈরি করে মদনকে দায়িত্ব দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। বছর একাত্তরের মদন কামারহাটির বিধায়ক। ২০১১ সালে রাজ্যে পরিবর্তনের সময় এই কামারহাটি থেকে জিতেছিলেন তিনি। পরে ২০১৬ সালে হেরে যান। কিন্তু, ২০২১ সালে ফের এই কেন্দ্র থেকে জেতেন। এবার বিধানসভা ভোটে দলের ভরাডুবির মধ্যেও নিজের আসন ধরে রেখেছেন মদন। তৃণমূলের এই দুঃসময়ে অনেক নেতা যখন নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন, তখন মদন রাস্তায় নেমেছেন। হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন।
দীর্ঘদিনের সেই সঙ্গীকেই এবার বাড়তি দায়িত্ব দিলেন মমতা। এর আগে ব্যারাকপুর-দমদম সাংগঠনিক জেলা ছিল তৃণমূলের। এই সাংগঠনিক জেলার মধ্যেই পড়ে কামারহাটি বিধানসভা। আলাদা করে দমদম সাংগঠনিক জেলা নামে তৃণমূলের কোনও কমিটি ছিল না। এবার সেটাই করল ঘাসফুল শিবির। উনত্রিশের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই কি দমদম সাংগঠনিক জেলা তৈরি হল? এবার কি লোকসভা কেন্দ্রিক সাংগঠনিক জেলা গঠন করতে চলেছে তৃণমূল? উঠছে প্রশ্ন। কারণ, দমদম ও ব্যারাকপুর দুটি লোকসভা কেন্দ্র। রাজ্যের বর্তমান শাসকদল বিজেপির বাংলায় ৪২টি সাংগঠনিক জেলা রয়েছে। প্রত্যেক লোকসভা কেন্দ্র পিছু একটা সাংগঠনিক জেলা। সেই ধাঁচেই এবার তৃণমূলও ৪২টি সাংগঠনিক জেলা গঠন করবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।