এবার 'মদ কেলেঙ্কারি'র অভিযোগে অভিযুক্ত হলেন অভিষেক
আর কত কেলেঙ্কারীর বোঝা মাথায় চাপাবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়! কয়লা, মাটি, নিয়োগ ইত্যাদি তো আছেই, এবার মদ কেলেঙ্কারি। আবগারি নীতি বদলে কার অ্যাকাউন্টে ঢুকত মদ বিক্রির কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা? অভিযোগের আঙুল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে। ক্ষমতায় থাকাকালীন কয়লাপাচার, বালিপাচার এবং শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছিল অভিষেকের। এবার মদ কেলেঙ্কারিতে আঁতসকাচের নিচে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। এই অভিযোগকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা। তদন্ত করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলেই জানান মন্ত্রী দীপক বর্মন। ঘটনা ২০১৭ সালের। সেই সময় রাজ্যের আবগারি নীতিতে বদল করা হয়। পশ্চিমবঙ্গ আবগারি বোর্ড কর্পোরেশন গড়ে ওঠে। তাঁর ৫ সদস্য ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস গৌতম ঘোষ, তৎকালীন বিশেষ কমিশনার (রাজস্ব) শান্তনু আচার্য, সিনিয়র যুগ্ম রাজস্ব কমিশনার এবং তৎকালীন ম্যানেজার (অপারেশনস) সঞ্চয়ন গঙ্গোপাধ্যায়, ডেপুটি রাজস্ব কমিশনার এবং তৎকালীন ম্যানেজার (সিস্টেমস) রাজর্ষি চক্রবর্তী, অতিরিক্ত রাজস্ব কমিশনার এবং জিএম সিস্টেমস কুনাস বিশ্বাস। নীতিতে বদল আনা হয়।
নয়া নীতিতে সিলমোহর দেন কমিটিতে থাকা সকলে। আগে শুধুমাত্র ডিস্ট্রিবিউটারের থেকে রাজস্ব আদায় করত রাজ্য। তবে নয়া নিয়ম অনুযায়ী, ডিস্ট্রিবিউটার এবং পাইকারি বিক্রেতা – দু’পক্ষের কাছ থেকেই রাজস্ব পেত তৎকালীন রাজ্য সরকার। অভিযোগ, কোটি কোটি রাজস্বের একটি বড় অংশই নাকি সরাসরি ঢুকত তৃণমূলের ‘যুবরাজ’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পকেটে। শুধু অভিষেক নন। তাঁর ‘ডান হাত’ ফলতার জাহাঙ্গির খান নাকি এই দুর্নীতিতে যুক্ত ছিলেন। অভিযোগ, ২০১৭ সালের আগে ট্রেডাররা ইচ্ছামতো ডিস্ট্রিবিউটার বাছতে পারতেন। তবে ২০১৭ সাল থেকে বদলাতে শুরু করে পরিস্থিতি। জাহাঙ্গির খান নাকি ‘ধমকাতে চমকাতে’ শুরু করেন ডিস্ট্রিবিউটারদের। তৃণমূল নেতাদের দাবিমতো টাকা না দিলে ব্যবসাই বন্ধ হয়ে যাবে বলেই হুমকি দেওয়া হত। তার ফলে বাধ্য হয়ে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা দিতে হত ব্যবসায়ীদের।