গোবর ও গোমূত্র নিয়ে গবেষণায় নতুন ইঙ্গিত দিলো আইআইটি
জুলাই ৩০, ২০২৪
0
গোবর ও গোমূত্র নিয়ে গবেষণায় নতুন ইঙ্গিত দিলো আইআইটি
স্মাইল ইন্ডিয়া নিউজ বাংলা, শাশ্বতী চ্যাটার্জী :
প্রাচীন ভারতে গোবর দিয়ে বাড়ি-ঘর জীবাণুমুক্ত করা হতো তা আমরা জানি। এটাও জানি গোমূত্র দিয়ে পূজা মন্ডপ পরিশুদ্ধ করা হতো। ভারতীয় আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে এই গোবর ও গোমূত্রের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সূত্র ধরেই এসেছে নতুন গবেষণা।
আইআইটি (বিএইচইউ)-এর স্কুল অফ বায়োকেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক অভিষেক সুরেশ ধোবলে জানাচ্ছেন, দুধ ছাড়া কৃষকরা গরুর মূত্র এবং গোবর থেকেও আর্থিক ভাবে লাভবান হতে পারেন। গোবর এবং গোমূত্র থেকে কি টেকসই এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য তৈরি করে কৃষক সমাজের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব? গবেষণায় মগ্ন আইআইটি (বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়)-এর গবেষকরা। তাঁরা মনে করছেন, গবেষণা সফল হলে বদলে দেওয়া যাবে গ্রামীণ ভারতের অর্থনৈতিক চালচিত্র।তাঁদের কাছ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে গোবর ও গোমূত্র থেকে শুধু জ্বালানি নয়,শ্যাম্পু, সাবান,তেল ইত্যাদিও তৈরির একটা সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। এমনকি গবেষকেরা মবে করছে গোবরের সাহায্যে দাঁতের মাজনও তৈরি হতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরেই এই নিয়ে গবেষণা চলছে। সাম্প্রতিক গবেষণা, ‘সায়েন্টিফিক ক্যারাকটারাইজ়েশন মেথডস ফর বেটার ইউটিলাইজ়েশন অফ ক্যাটল ডাং অ্যান্ড ইউরিনে কনসাইস রিভিউ’-য়ে তেমনই দাবি করা হয়েছে। ভারত সরকারের বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি মন্ত্রক এই প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে। গবেষক দলের অন্যতম সদস্য তথা আইআইটি (বিএইচইউ)-এর স্কুল অফ বায়োকেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক অভিষেক সুরেশ ধোবলে জানাচ্ছেন, দুধ ছাড়া কৃষকরা গরুর মূত্র এবং গোবর থেকেও আর্থিক ভাবে লাভবান হতে পারেন। যদিও তিনি মেনে নিচ্ছেন, এই ধরনের বৈজ্ঞানিক গবেষণার খামতি রয়েছে। সেই খামতি দূর করতেই তাঁদের পরিশ্রম।তিনি মনে করেন,সম্ভাবনা থাকলেও আরো গবেষণার প্রয়োজন। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই গবেষণার জেরে শুধু যে এ বিষয়ে সামগ্রিক জ্ঞানবৃদ্ধি হচ্ছে তা-ই নয়, বরং আগামিদিনে আরও প্রগতিশীল গবেষণার দরজাও খুলে যাচ্ছে। গরুর গোবর এবং গোমূত্রের ‘প্রোফাইলিং’-এর মাধ্যমে প্রাচীন তথা প্রচলিত গ্রামীণ ধ্যানধারণাকেও বৈজ্ঞানিক মানদণ্ডে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব।
তবে ইতিমধ্যে কাজ অনেকটাই এগিয়েছে। আশাবাদী গবেষক মহল।
