তিল' চাষে অতিরিক্ত লাভ - কৃষকেরা বাড়িতে তিলের তেল আর ব্যবহার করছে না
আগস্ট ০১, ২০২৪
0
'তিল' চাষে অতিরিক্ত লাভ - কৃষকেরা বাড়িতে তিলের তেল আর ব্যবহার করছে না
স্মাইল ইন্ডিয়া নিউজ বাংলা, শাশ্বতী চ্যাটার্জী :
হুগলি জেলার একটা বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আলু তোলার পরে মধ্যবর্তী সময়ে তিল চাষ করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। তিলের বাজার বেশ ভালো। তিলের তেলের রান্নায় যেমন স্বাদ তেমনই তার পুষ্টিগুণ। এক সময় গ্রাম বাংলায় ঘরে ঘরে সর্ষের তেলের পাশপাশি তিলের তেল দিয়ে রান্না করার বেশ চল ছিল। ক্ষেত থেকে আলু উঠে গেলেই তিল বোনা হতো। আর সেই তিলের তেলে বছরভর নিমকি, বড়া সহ নানান মুখোরোচক ভাজাভুজি রান্না হতো। কিন্তু দিন বদলেছে, এখন প্যাকেটজাত রিফাইন্ড তেলেই হয় যাবতীয় ভাজাভুজির কাজ। তিলের তেলের ব্যবহার কমলেও তিলের চাহিদা কিন্তু ব্যাপক। এতে কৃষকদের লাভ হয় ভালো।
তিল চাষ আগের মতোই হলেও তার তেল এখন আর বিশেষ একটা খায় না কেউ। কিন্তু কেন? এর পিছনে রহস্যটা কী? চাষিদের সঙ্গে কথা বলেই সমাধান হল এই রহস্যের।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি আধিকারিকদের কাছ থেকে জানা গেল,আরামবাগ মহকুমায় প্রতিবছর প্রচুর তিল চাষ হয়। এইবছরও তাই হয়েছে। বিঘার পর বিঘা জমিতে তিল লাগানো হয়েছে। অনুকূল পরিবেশ পেয়ে ফলনও ভালো হয়েছে। এতে বেশ ভালোই আয় হয়েছে কৃষকদের। ফলে তাঁরা অত্যন্ত খুশি। আর এখানেই কাহানি মে টুইস্ট। উৎপাদিত তিল বেশি লাভে বাইরে বিক্রি করার সুযোগ থাকায় তা থেকে তেল উৎপন্ন করে বাড়িতে রান্না করা ছেড়ে দিয়েছেন এখানকার কৃষকরা। উল্লেখ্য, আলু তোলার পর জমিতে তিল লাগান বেশিরভাগ কৃষক। বেশি লাভ হওয়ায় আগের থেকে তিন উৎপাদন বেড়েছে। আবহাওয়ার খামখেয়ালিপোনায় আলু চাষে ক্ষতি হলেও তিল চাষে তেমন সমস্যা হচ্ছে না বলেই জানিয়েছেন কৃষকরা। তিল চাষের জন্য এক বিঘা জমিতে প্রায় ৩-৪ হাজার টাকা খরচ করতে হয়। উৎপন্ন তিল আট হাজার টাকা প্রতি কুইন্টাল দরে বাজারে বিক্রি হয়। ফলে বাড়িতে ব্যবহার করে এই আয়ের সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইছেন না কৃষকরা। ফলে কৃষকেরা এখন তিলের তেল ব্যবহার না করে বাড়িতে বাজারের প্যাকেটজাত তেল ব্যবহার করছেন।
Tags
