নানা রূপে বিশ্বকর্মা
আগস্ট ৩০, ২০২৪
0
পুরান সংবাদ
নানা রূপে বিশ্বকর্মা
দেবতা বিশ্বকর্মাকে স্রস্টা , শিল্পী, স্থপতি - এমন নানা রূপেই আমরা পাই। কিন্তু এই বিশ্বকর্মার নানা রূপের বর্ণনা আছে আমাদের পুরানে। প্রথমেই মনে রাখতো হবে বিশ্বকর্মা কিন্তু বৈদিক দেবতা। পরে, পুরানে তাঁকে নানা রূপে বর্ণনা করা হয়। বৈদিক বিশ্বকর্মা আর পৌরাণিক বিশ্বকর্মা হলেন দুটি ভিন্ন চরিত্র। যখন থেকে সৃষ্টি, তখন থেকেই সৃষ্টির দেবতা কল্পনার যাত্রা শুরু। তাই বেদে বিশ্বকর্মা সর্বাধিক ক্ষমতা সম্পন্ন দেবতা। ঋগবেদে বিরাট পুরুষই বিশ্বকর্মা। বৈদিক সাহিত্যে সূর্যের সঙ্গে বিশ্বকর্মা বারবার একীভূত হয়েছেন। কারণ সূর্যই সৃষ্টিকর্তা। বিশ্বকর্মা যে মূলত সূর্য একথা দেশি -বিদেশি অনেক পণ্ডিত স্বীকার করেছেন। কারণ বেদে বলা হচ্ছে, ‘হে সূর্য, তুমি জ্যোতির মাধ্যমে শোভামান হয়ে দ্যুলোকে প্রকাশিত হও। তুমি সকল কর্ম সম্পাদক, তুমি বিশ্বকর্মা। তোমার তেজে বিশ্বভুবন অধিষ্ঠিত।" এই বক্তব্যে বিশ্বকর্মার স্বরূপ ব্যক্ত করা হয়েছে। বেদে সূর্য নামক দেবতা ও বিশ্বকর্মা দুই ভিন্ন দেবতা হলেও তাঁদের কাজ এক, স্বরূপত তাঁরা সূর্যাগ্নি বা সূর্যরশ্মি। কিন্তু পৌরাণিক যুগে বিশ্বকর্মাকে আমরা পাই নানা রূপে।
বায়ু পুরাণের এক প্রসিদ্ধ কাহিনি আমাদের সূর্য ও বিশ্বকর্মার পারস্পরিক সম্পর্কের বিবর্তিত রূপকে তুলে ধরে। এই কাহিনি অনুসারে বিশ্বকর্মার কন্যা সুরেণুর সঙ্গে বিবাহ হয় ভাস্করের, অর্থাৎ সূর্যের। সূর্যের স্ত্রীরূপে তাঁর নাম হয় সংজ্ঞা। সেটা অবশ্য অন্য এক গল্প। পুরাণে বিশ্বকর্মা শিল্পী, তিনি কেবল কর্মকার বা সূত্রধর নন। তিনি শ্রেষ্ঠ স্থপতি ও বাস্তুকার। রামায়ণে দেখি, বিশ্বকর্মা রাবণের সোনার লঙ্কা নির্মাণ করছেন। আবার বিশ্বকর্মা পুত্র নল নামক বানর পিতার শক্তিতে শক্তিমান হয়ে সমুদ্রের উপরে সেতুবন্ধন নির্মাণ করেছিলেন। আবার হরিবংশে পাই শ্রীকৃষ্ণের আদেশে বিশ্বকর্মা দ্বারকাপুরী নির্মাণ করেছিলেন। বিষ্ণুপুরাণে বিশ্বকর্মা দেবতাদের বিমান ও ভূষণ নির্মাতা। যিনি সমস্ত দেবতাদের বিমান তৈরি করেছেন। মহাভারতে আছে বিশ্বকর্মার উপস্থিতি। সেখানে বিশ্বকর্মা বিশ্বস্রষ্টা, তিনি স্বর্গেরও স্রষ্টা। আর সহস্র শিল্পেরও স্রষ্টা তিনিই। তাই আজও আমরা সেই পুরাণের দেবশিল্পী বিশ্বকর্মাকে পূজা করি।
