Type Here to Get Search Results !

জলপাইগুড়ির বনেদি বাড়ির পুজো-

 জলপাইগুড়ির বনেদি বাড়ির পুজো- 


বাংলাদেশ থেকে মা দুর্গার কাঠামো নিয়ে এসে কয়েক শতাব্দী ধরে দুর্গা পূজো করে চলেছেন সাহা পরিবার।


বিগত কয়েক শতাব্দি ধরে বংশ পরম্পরায় পারিবারিক নিয়ম মেনেই সাহা পরিবার করে আসছেন দুর্গাপূজো । ভারতে আসার পর গোলাবাড়িতে এবার ১৫৮ বছরে পদার্পণ করছে তাদের এই দুর্গা পুজো।



জলপাইগুড়ি জেলার ক্রান্তি ব্লকের সাহা পরিবারের দুর্গ পুজো যেন এক ইতিহাস তৈরি করেছে। সাহা পরিবারের এই দুর্গাপুজো অবিভক্ত বাংলাদেশের রংপুর জেলার টেপাখোলা গ্রামে প্রথম পুজো শুরু করেন তাদের পূর্বপুরুষেরা। এরপর বাংলাদেশ থেকে পূর্বপুরুষের বেশ কয়েকজন চলে আসেন ভারতে। সেখান থেকে তাদের যে দুর্গ পুজোর মূর্তির কাঠামো রয়েছে সেই কাঠামো নিয়ে চলে আসেন। ভারতে এসে ক্রান্তি ব্লকের চিকনমারী গ্রামে। সেখানে এসে পারিবারিক নিয়ম অনুযায়ী সেই কাঠামোতেই আবার মাটির মূর্তি গড়ে পুজো শুরু করেন তারা। এরপর বেশ কয়েক বছর কেটে গেলে হঠাৎ বানভাসীর কারণে চিকন মারি থেকে ক্রান্তি ব্লকের গোলাবাড়ি এলাকাতে চলে আসেন তারা। সাথে নিয়ে আসেন সেই মূর্তির কাঠামো। আজও ওই কাঠামোতেই প্রতিবছর মাটির মূর্তি গড়ে নিয়ম নিষ্ঠা মেনে পরিবারের সকলে মিলে দুর্গপূজো করে আসছেন সাহা পরিবার।


পরিবার সদস্যরা আরো জানান তারা পূর্বপুরুষ ধরে যেভাবে পুজোটা করে এসেছেন আজও সেই নিয়ম মেনেই পুজো চলছে। পুজো যে পুরোহিত দিয়ে শুরু করা হয়েছিল আজও তার বংশধররাই এই পূজা করে আসছেন। পাশাপাশি পুজোর জন্য যে ঢাক বাজানো হয় সেই ঢাকিরাও কিন্তু বংশপরম্পরায় এখানে ঢাক বাজান। এমনকি মূর্তি গড়ার যে পাল রয়েছেন তারাও কিন্তু এই বংশপরম্পরায় সাহা পরিবারের মূর্তি গরেন।


সাহা পরিবারের এখন অনেকেই ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় থাকেন কেউবা দিল্লি কেউবা কলকাতায়। তবে যে যেখানেই থাকুক না কেন দুর্গা পূজার চারটা দিন সকলেই মিলিত হয় এই ক্রান্তি ব্লকের গোলাবাড়ি এলাকায়। শাহ পরিবারের সদস্যরা আরো জানান সারা বছর কর্ম ক্ষেত্রে কারো সঙ্গে কারো যোগাযোগ ঠিকমতো হয় না বা কারো সঙ্গে দেখা হয় না। কিন্তু সবাই অপেক্ষায় থাকে কবে মা আসবেন আর না আসলেই তো সন্তানরা সেখানে যাবে আজ দেড় দুশো পরিবার রয়েছে ভারতে বিভিন্ন প্রান্তে। অনেকে রয়েছে বাংলাদেশে। এখনো কিন্তু তারাও দুর্গা পুজোতে ভারতে আসেন। একসঙ্গে আনন্দ করে চারটা দিন কাটায় এই সারা পরিবার।। 


যেহেতু বংশ পরম্পরায় একই কাঠামোতে প্রতিমা গড়ে পুজো করতে হয় তাই মাঝেমধ্যে হয়তো কাঠামো কোন অংশ নষ্ট হয়ে গেলে সেটাকে পুনরায় তৈরি করে আবার মাটি লাগানোর কাজ শুরু হয়। পাশাপাশি দশমীতে আগে ভোগ দেওয়া হতো পান্তা ভাত কিন্তু এখন ভোগ দেয়া হয় দই চিড়া। পুজোর তিনটে দিন যাঁর জমক করে কাটিয়ে দশমীর পুজো সেরে বিসর্জন দেওয়া হয় বাড়ির পাশে নিজেদেরই পুকুরে। কারণ একদিন পরে তো সেই কাঠামো আবার তুলে নিয়ে এসে রাখতে হবে পরের বছর আবার সেই কাঠামোতেই পুজো হবে। 


ইতিমধ্যেই পূজোর প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে শাহ পরিবার শুরু হয়েছে প্রতিমা গড়ার কাজ শুরু করা হয়েছে পুকুর পরিষ্কারের কাজো। এরপরে শুরু হবে পরিবারের বাকি সদস্য যারা আসবে তাদের জন্য থাকার ব্যবস্থা তৈরি করা হবে প্যান্ডেল। কারণ পরিবারের সদস্য তো কম নয় সকলে এসে যেহেতু চারটি দিন একসঙ্গে আনন্দ করে কাটাবে তাদের থাকার ব্যবস্থা তো করতে হবে। মা চলে গেলেই শেষে যে যার মত আবার কাজে চলে যাবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.