Type Here to Get Search Results !

পঞ্চবাণে কি শেষ হলো আম আদমি পার্টি

 পঞ্চবাণে কি শেষ হলো আম আদমি পার্টি 



   অনেকটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো 'সততার প্রতীক' হয়েই কেজরিওয়ালের উত্থান। যখন দেশটা দুর্নীতি, স্বজন পোষণে ভরে গেছে, তখন আন্না হাজারের ভাব শিষ্য অরবিন্দ কেজরিওয়াল 'সততা' ইমেজ নিয়ে 'ঝাড়ু' হাতে দিল্লিবাসীর বিশ্বাস অর্জন করেছিলেন। তখন তিনি হয়তো বোঝেন নি যে এই মুকুট আসলে কাঁটার মুকুট। সামান্য এদিক ওদিন হলেই সেই কাঁটার মুকুটকে মানুষ ছুঁড়ে ফেলে দেবেন। হয়েছেও তাই। কিন্তু কেন এমন এক নতুন বিপ্লবী দলের পরাজ্য? কেন কেজরিকে বিরোধী আসনে বসতে হচ্ছে? কেন মানুষ মুখ ঘুরিয়ে নিলো? কেন মানুষ মনে করলো - এরা আর আম আদমির দল নয়? এমন অজস্র প্রশ্ন সামনে চলে এসেছে। এই বিষয়য়েই রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সমাজতাত্বিকেরা ৫টি কারণের কথা উল্লেখ করেছেন।


  ১) যে 'সততা' ইমেজ নিয়ে কেজরির আবির্ভাব সেই সততা শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারেন নি তিনি। মুখ ও মুখোশ মানুষের সামনে চলে এসেছে। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নামের সঙ্গেই একটা সময় জুড়ে গেল দুর্নীতি। আবগারি মামলায় গ্রেফতার হলেন কেন্দ্রীয় এজেন্সির হাতে, জেল খাটলেন। শুধু তো তিনি একা নন, একই পরিণতি হয়েছে তাঁর মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্যের। এমনকী অন্না হাজারে পর্যন্ত বলেছেন, "দুর্নীতির দায়ে জেলে যাওয়া মানুষ ভালভাবে নেয়নি। আমি প্রথম থেকেই বলে এসেছি, ভোটের লড়ার সময় আচার-বিচার শুদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। জীবন কলঙ্কমুক্ত হওয়া প্রয়োজন।"


  ২) সেই দুর্নীতির বর্ধিত রূপ হিসাবে মানুষ দেখেছেন, কেজরির প্রাসাদোপম অট্টালিকা। যেটি ৪৫ কোটি টাকা খরচ করে সংস্কার করা হয়েছে বলে অভিযোগ। যা নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে রাহুল গান্ধী, সবারই হাতে আপের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে দিয়েছিল। আর সেই সুযোগ হাতছাড়া করে নি বিজেপি। সেটা তারা প্রচারের একদম সামনে নিয়ে এসেছিলো। এমন কি প্রধানমন্ত্রী দিল্লিতে প্রচারে বলেন, "এত অহঙ্কার, যখন পৃথিবী করোনার সঙ্গে লড়ছিল, তখন এই আপদা শিশমহল তৈরি করছিলেন। নিজেদের দুর্নীতি লুকোতে নানা ফন্দি এঁটেছেন।"


  ৩) দিল্লির বায়ুদূষণ, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ সীমাহীনভাবে বেড়ে গেছে। দিল্লির বায়ুদূষণ নতুন নয়, কিন্তু সেই দূষণ রোধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েই তারা ক্ষমতায় এসেছিলেন। অথচ সেই দূষণ কমে নি, বরং অনেক বেড়ে গেছে। সঙ্গে বেড়ে চলেছে মানুষের ফুফুসের অসুখ। মানুষের সহ্যর সীমা অতিক্রম করেছিল।


  ৪) থমকে গিয়েছিল উন্নয়ন। একটা দম বন্ধকরা পরিবেশ। 

গত কয়েক বছর ধরে দিল্লি সরকার এবং কেন্দ্র নিযুক্ত দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নরের মধ্যে ক্রমবর্ধমান দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই উন্নয়ন থমকে গিয়েছিল। এই জায়গায় দাঁড়িয়ে দিল্লিবাসী মনে করছেন 'ডবল ইঞ্জিন' সরকার এলে এই বিবাদ মিটবে।


  ৫) এ তো গেলো আম আদমি পার্টির নেগেটিভ রিপোর্ট। আর এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, বিজেপির বেশ কিছু পজিটিভ রিপোর্ট। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আম আদমি পার্টির নেওয়া সমস্ত সমাজ কল্যাণমূলক প্রকল্প তারা শুধুই বজায় রাখবে না, বৃদ্ধি করবে। সঙ্গে সদ্য পেশ করা বাজেটে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়কর ছাড়া মানুষের মনে আশার সৃষ্টি হয়েছিল।


  কোনো সরকারই কখনোই চিরন্তন হয় না। জন্ম থাকলে যেমন মৃত্যু অনিবার্য ঠিক তেমনই কোনো দলের সরকারের পরাজয় স্বাভাবিক। কিন্তু এতো দ্রুত তা ঘটবে তা কিন্তু আপামর ভারতবাসী আশা করেছিলেন না।

Tags

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.