Type Here to Get Search Results !

কাশ্মীরকে অশান্ত করে কোন খেলা খেলতে চাইছে পাকিস্তান?

 কাশ্মীরকে অশান্ত করে কোন খেলা খেলতে চাইছে পাকিস্তান?



  সাম্প্রতিককালের ইতিহাসে এমন নির্মম ঘটনার নজির আর নেই। ২২ তারিখ পুলওয়ামায় যা ঘটেছে তা পাকিস্তানের ইসলামিক মৌলবাদীদের আক্রমন। এর জবাব ভারতের পক্ষ থেকে দিতেই হবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কেন হঠাৎ ভারত নিয়ে পাকিস্তানের এতো মাথাব্যথা?ভারতে জাতীয়তাবাদী ও হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক শক্তির উত্থান অন্যতম কারণ। যার ফলে অশান্তি বেড়েছে ইসলামাবাদের। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর পাকিস্তান এবং জম্মু-কাশ্মীরের প্রতি ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গিয়েছে। অতীতের তুলনায় উপত্যকায় অনেক বেশি আগ্রাসী ভারতীয় সেনা। এনকাউন্টারে খতম হয়েছে বহু কুখ্যাত জঙ্গি, নিয়ন্ত্রণ রেখায় কড়া নজরদারিতে লস্কর, জইশদের অনুপ্রবেশের ষড়যন্ত্র রোখা গিয়েছে। ফলে কিছুটা দিশেহারা পাকিস্তান।


  এই আগে পুলওয়ামা হামলার পর নিয়ন্ত্রণ রেখা ডিঙিয়ে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হয়েছে। এর মধ্যেই ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা দানকারী ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করেছে কেন্দ্র। রাজ্যের মর্যাদা হারিয়েছে উপত্যকা। জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ— দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল তৈরি করা হয়েছে। ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের ফলে ভারতের আর পাঁচটি রাজ্যের সঙ্গে জম্মু ও কাশ্মীরের আর কোনও পার্থক্য নেই। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইসলামাবাদের প্রচার ‘কাশ্মীর সমস্যা’ জোরালো ধাক্কা খেয়েছে। পাকিস্তানের জন্য কফিনে শেষ পেরেকটি ছিল এক দশক পর জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভা নির্বাচন। ভোটের আগে অনন্তনাগ-সহ একাধিক ভারত-পাক নিয়ন্ত্রণ রেখায় ধুন্ধুমার সংঘর্ষ হয়েছে জঙ্গি-সেনার। লাগাতার জঙ্গি নিকেশের খবর এসেছে। কর্তব্যরত অবস্থায় শহিদ হয়েছেন ভারতের বীর জওয়ানরাও। এই পর্বে নিরীহ পরিযায়ী শ্রমিকদের হত্যা করে উপত্যকার আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে নড়বড়ে করে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত কার্যসিদ্ধি হয়নি।


  কাশ্মীরে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে এসেছে। প্রচুর পর্যটক কাশ্মীরে যাচ্ছে। কাশ্মীরের অর্থনীতি অনেকটাই ফিরেছে। সুন্দরী কাশ্মীর মোটের উপর শান্ত থাকায় বছরে বছরে বাড়ছিল পর্যটকের সংখ্যা। একটি হিসাব বলছে, গত বছর জম্মু ও কাশ্মীরে ২৯ লক্ষ ৫০ হাজার পর্যটক সমাগম হয়েছিল। ২০২৩ সালে যা ছিল ২৭ লক্ষ ১০ হাজার। ২০২২ সালে ২৬ লক্ষ ৭০ হাজার পর্যটক ঘুরে গিয়েছেন কাশ্মীর। পুরনো রেকর্ড ভাঙার দিকেই এগোচ্ছিল চলতি বছর। জানুয়ারি থেকেই দেশ-বিদেশের পর্যটকে উপচে পড়ছিল উপত্যকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাশ্মীরের এই ভালো থাকা, পর্যটকদের আনাগোনা, স্থানীয়দের মানুষ হাসিখুশি জীবন কাটানো জনবিচ্ছিন্ন পাক জঙ্গিদের জন্য বিষফোঁড়া হয়ে উঠছিল। আর সেই কারণেই তারা আশান্ত করতে চাইছে কাশ্মীরকে। কিন্তু এর ফল ভুগতেই হবে পাকিস্তানকে।

Tags

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.