আন্তর্জাতিক
ভারত ইজরাইলের বন্ধু বলেই কি ভারতে এই হামলা?
বিশেষ গোপন সূত্রে একটা খবর ভারতের কাছে এসেছে যে এই হামলার পিছনে হামাস বাহিনীর প্রত্যক্ষ মদত আছে। কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে নারকীয় হামলার দায় স্বীকার করেছে লস্কর-ই-তইবার ছায়া সংগঠন টিআরএফ বা দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট। হামলায় জড়িত জঙ্গিরা বেশিরভাগই বিদেশি। ইতিমধ্যেই জেহাদের বিরুদ্ধে পালটা প্রত্যাঘাতে নেমেছে সেনা। উপত্যকার কুলগামে চলছে গুলির লড়াই। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলা চালাচ্ছে সেনাবাহিনী। পহেলগাঁওয়ের এই হামলার পিছনে একাধিক তত্ত্ব উঠে আসছে গোয়েন্দা সূত্রে। যার মধ্যে প্যালেস্টাইনের জঙ্গি সংগঠন হামাসের জড়িত থাকার বিষয়টিও সামনে আসছে।
সূত্র মারফট ভারত জানতে পেরেছে, গত ফেব্রুয়ারিতেই লস্করের সঙ্গে এক টেবিলে বৈঠক সেরেছে হামাস। ফলে প্রশ্ন উঠছে, ভারত ইজরায়েলের বন্ধু হওয়াতেই কি কোনও বড় ষড়যন্ত্র রচিত হয়েছিল? যার মাসুল দিতে হল ২৬ নিরীহ পর্যটককে। পাক অধিকৃত কাশ্মীরে প্রতিবছর ৫ ফেব্রুয়ারি একতা দিবস পালন করে পাকিস্তান। সরকার আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মূলত ভারত বিরোধী প্রোপাগান্ডা রচিত হয়।
এক গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছিল, এবছর সেই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আনা হয়েছে হামাস কমান্ডার তথা মুখপাত্র খালিদ কদৌমিকে। এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিল লস্কর ও জইশ সংগঠনের শীর্ষ জঙ্গিরা। কাশ্মীরকে অশান্ত করতে এই তিন জঙ্গি সংগঠনের একজোট হওয়ায় যথেষ্ট উদ্বেগ বেড়েছিল। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই কর্মসূচি আয়োজিত হয়েছিল ‘আল আকসা ফ্লাড’-এর ব্যানারে।
এই অপারেশনের নামেই ২০২৩ সালের গত ৭ অক্টোবর ইজরায়েলে হামলা চালিয়েছিল হামাস। যে হামলায় প্রাণ হারান ১২০০ জন নিরপরাধ মানুষ। আসলে আল আকসা হল জেরুজালেমের এক মসজিদ। যে মসজিদের উপর নিজেদের কর্তৃত্বের দাবি বরাবর করে এসেছে মুসলিম ও ইহুদি দুই পক্ষ। ফলে পিওকে-র এই কর্মসূচি নিয়ে গোয়েন্দাদের মধ্যে শঙ্কা ছিল। বিভিন্ন রিপোর্টে গোয়েন্দাদের অভিযোগ, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে চাইছে জম্মু ও কাশ্মীরের ইস্যুকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরতে। যদিও সেই মঞ্চে মিথ্যাচার চালিয়েও বিশেষ সুবিধা করতে পারেনি ইসলামাবাদ। এদিকে, গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইজরায়েলের পাশে রয়েছে ভারত। হামাসের নিন্দা করে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার বার্তা দিয়েছিল দিল্লি।
