Type Here to Get Search Results !

কবিপক্ষ : 'কুশরি' থেকে 'ঠাকুর' - ইতিহাসের বিবর্তন

 কবিপক্ষ : 'কুশরি' থেকে 'ঠাকুর' - ইতিহাসের বিবর্তন 



  আজ, ২৫ বৈশাখ আমাদের হৃদয়ের কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন। সারা বিশ্বজুড়ে শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত হচ্ছে তাঁর জন্মদিন। তিনি শুধুই পদবিতে 'ঠাকুর' নন, বাঙালি হৃদয়ে ঠাকুর হিসাবে দেবতার আসন নিয়েছেন। সেই 'ঠাকুর' পরিবারের আদি পদবি কিন্তু ঠাকুর ছিল না, ছিল 'কুশরি'। তখনো শহর কলকাতার জন্ম হয় নি। সবে জব চার্ণক তাঁর নৌকা ভিড়িয়েছিলেন কালিকট বন্দরে। সেই সময় থেকেই কুশরি ধীরে ধীরে হয়ে উঠলো 'ঠাকুর' - একটা সামাজিক বিবর্তনের পথ ধরে। ঠাকুুরবাড়ির আদি পদবি ছিল কুশারি। তবে তাঁরা ব্রাহ্মণ সমাজে একপ্রকার বঞ্চিত ছিলেন। কেন? কথিত আছে, এক বিশেষ ধরনের মাংসের গন্ধ শোঁকার অপরাধে তাদের ‘একঘরে’ করা হয়েছিল ব্রাহ্মণ সমাজে। কিন্তু তারা থেমে থাকে নি। মনে ব্রাহ্মণ সমাজের প্রতি ক্ষোভ নিয়ে এগিয়ে চলে জীবনের পথে।


  ইতিহাস জানাচ্ছে, সুন্দরবনে তখন থাকতেন ওই চার ভাই। রতিদেব কুশারি, কামদেব কুশারি, শুকদেব কুশারি, জয়দেব কুশারি। এঁদেরই পরবর্তী পুরুষে জন্ম হয় জগন্নাথ কুশারি। তার থেকেই ঠাকুরবাড়ির বংশধারা এসেছে। জগন্নাথের বংশধর ছিলেন রামানন্দ, তাঁর দুই ছেলে মহেশ্বর আর শুকদেব। তখন কলকাতা বলে আলাদা কোনও শহর ছিল না। ছিল তিনটি গ্রাম - ডিহি কলিকাতা, সুতানুটি ও গোবিন্দপুর। সুন্দরবন থেকে এই গোবিন্দপুরেই চলে আসেন মহেশ্বর আর শুকদেব। সেখানে থাকাকালীন গ্রামের দরিদ্র মানুষদের নিয়মিত সেবা করতেন দুই ভাই। পাশাপাশি প্রচুর দান-ধ্যান করতেন গ্রামবাসীদের। স্থানীয় মানুষদের মনে এভাবেই ধীরে ধীরে বিশেষ স্থান তৈরি হয় দুই ভাইয়ের জন্য। স্থানীয় গ্রামবাসীরা তাদের শ্রদ্ধা করতেন, ভালোবাসতেন। মনে করা হয়, দুই ভাইকে গ্রামবাসীরা ঈশ্বরপ্রতিম বলে সম্বোধন করতেন প্রায়ই। তাই একটা সময় ঠাকুর বলে ডাকা হত তাদের। এই ঠাকুর ডাককেই নিজের উপাধি হিসেবে প্রথম গ্রহণ করেন শুকদেব। পরে তাঁর ভাই মহেশ্বরের পুত্র পঞ্চাননও কাকাকে অনুসরণ করে ঠাকুর উপাধি গ্রহণ করেন। 


  ইতিহাস যত এগোতে থাকে, ততই তাঁরা ধীরে ধীরে কুশরি থেকে ঠাকুর হয়ে উঠতে থাকেন। এর মাঝেই এক বংশধর নীলমণি ব্যবসায়িক সূত্রে ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়লেন কলকাতার আরেক ধনী ব্যবসায়ী বৈষ্ণবচরণ শেঠের। বৈষ্ণবচরণ নীলমণিকে গঙ্গার কাছাকাছি বড়বাজার অঞ্চলে একটি জমি উপহার দেন। বন্ধুত্বের স্মারক হিসেবে ওই দেড় বিঘা জমিতেই তৈরি হয় আজকের জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি। উনিশ শতকের গোড়া থেকেই এই বাড়ি হয়ে উঠেছিল বাংলার সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র। আজও সেই বাড়ি বাঙালির কাছে তীর্থের মতোই!আর সেখানে এসে তারা কুশরি বর্জন করে সম্পূর্ণরূপে 'ঠাকুর' পদবি গ্রহণ করেন। প্রিন্স দ্বারকানাথের সময় থেকেই ব্রিটিশ সরকার সমস্ত সরকারি নথিতে তাঁদের পদবি 'ঠাকুর' হিসাবেই নথিভুক্ত করেন।

Tags

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.