Type Here to Get Search Results !

মহাভারতের অজানা কাহিনী

 


মহাভারতের অজানা কাহিনী 


পাণ্ডুর পাঁচ পুত্র এবং মহাভারতে ঘটে যাওয়া ধৃতরাষ্ট্রের শত পুত্রের মধ্যে শত্রুতা সম্পর্কে আমরা সকলেই অবগত। তাদের মধ্যে এই বিদ্বেষ পাশার খেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল এবং ফলস্বরূপ, পাণ্ডবরা তাদের জমি এবং তাদের স্ত্রী দ্রৌপদীকে কৌরবদের কাছে হেরে যান এবং ১৩ বছরের নির্বাসনের পরে, যখন পাণ্ডবরা ফিরে এসেছিলেন, দুর্যোধন তাদের অর্ধেক জমি ফিরিয়ে দিতে অস্বীকার করেছিলেন। তারপরেই শুরু হয়েছিল বিশ্বের অন্যতম ও বৃহত্তম যুদ্ধ। সেই মহাভারতের কিছু অজানা কাহিনী এখানে উল্লেখ করা হলো।


  ১) রাজা জনমেজয় কেন বৈশম্পায়নকে দিয়ে সর্পিয়াজ্ঞ করেছিলেন ?

বৈশম্পায়ন বেদব্যাসের শিষ্য। তিনি প্রথমবার রাজা জনমেজয়ের বাড়িতে মহাভারত পাঠ করেছিলেন। জনমেজয় ছিলেন অর্জুনের পুতী, অভিমন্যুর নাতি এবং পরিক্ষীতের পুত্র। তাঁর বাবার মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য বৈশম্পায়ন দ্বারা অনেক সর্পিয়াজ্ঞ করেছিলেন।


  ২) কেন কৌরব এবং পাণ্ডবদের মধ্যে যুদ্ধের আয়োজন হয়েছিল কুরুক্ষেত্রে ?

কারন কুরুক্ষেত্র হল ধর্মক্ষেত্র (যে স্থানে ধর্মীয় আচারসমূহ অনুষ্ঠিত হয়) শব্দটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ, যাকে বেদে আরাধনার ক্ষেত্র বলে উল্লেখ করা হয়েছে, এমনকি দেবতাদের জন্যও। কারণ কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধক্ষেত্রে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনের (পাণ্ডবদের) পক্ষ অবলম্বন করেছিলেন।  তাই ধৃতরাষ্ট্র এই যুদ্ধের ফলাফলের উপর এই পবিত্র স্থানের প্রভাব সম্বন্ধে শঙ্কাকুল হয়েছিলেন। তিনি খুব ভালভাবে জানতেন যে, অর্জুন তথা অন্যান্য পাণ্ডবদের উপর এই পবিত্র স্থানের মঙ্গলময় প্রভাব পড়বে, কারণ তাঁরা সকলেই ছিলেন অত্যন্ত ধর্মপরায়ণ।


  ৩) সঞ্জয়ের দিব্যদৃষ্টি বর্তমানকালে টেলিভিশনের ধরনা দিয়েছিল

সঞ্জয় ছিলেন ব্যাসদেবের শিষ্য, তাই ব্যাসদেবের আশীর্বাদে তিনি দিব্যদৃষ্টির প্রভাবে ধৃতরাষ্ট্রের ঘরে বসেও কুরুক্ষেত্রের রণাঙ্গন দেখতে পেতেন এবং ধৃতরাষ্ট্রকে বর্ণনা করতেন। আর তাই শুনে ধৃতরাষ্ট্র যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ অবগত থাকতেন।


  ৪) কেন শ্রীকৃষ্ণ কৌরবদের পরিবর্তে পাণ্ডবদের সমর্থন করেছিলেন ?

আসন্ন কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে কৃষ্ণের সহায়তা পাওয়ার জন্য দুর্যোধন সবার আগে দ্বারকা পৌঁছান। অর্জুন তখনও পৌঁছননি। কৃষ্ণের কক্ষে প্রবেশ করে দুর্যোধন তাঁকে ঘুমন্ত দেখেন এবং ভগবানের মাথার কাছে রাখা একটি সিংহাসনে বসে অপেক্ষা করতে থাকেন। পরে অর্জুন সেখানে প্রবেশ করে কৃষ্ণের পায়ের কাছে আসন গ্রহণ করেন। জেগে উঠে কৃষ্ণ অর্জুনকেই প্রথম দেখেন। কারন ভগবান তার চরনে থাকা ভক্তকে আগে উদ্ধার করেন। তিনি অর্জুনকে ২ টি শর্ত দিয়ে বলেন একটি বাছাই করতেঃ 


— একদিকে থাকবে একা স্বয়ং কৃষ্ণ, তবে তিনি যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করবেন না, থাকবেন সারথী হয়ে। 

অন্যদিকে থাকবে বিশাল নারায়নী সেনা। 


 -- অর্জুন প্রথম শর্ততে রাজি হলে শ্রীকৃষ্ণ তাঁর পক্ষে থাকার প্রতিশ্র ুতি দেন। দুর্যোধন আগে এলেও তাকে বাছাইয়ের প্রথম সুযোগ না দেওয়ায় অত্যন্ত ক্ষুন্ন হন, যদিও তার ইচ্ছা ছিল বিশাল নারায়নী সেনা সেটা পাওয়াতে প্রসন্ন হয়ে যান। কৃষ্ণ তাঁকে আশ্বাস দেন তাঁর অধীনস্থ নারায়ণী সেনা কৌরব পক্ষেই ষুদ্ধ করবে।

Tags

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.