অফবিট
বিশ্বের অন্যতম ধনী মানুষের জীবন যেন এক মানবিকতার ইতিহাস
উইলিয়াম হেনরি গেটস থার্ড। ১৯৫৫ সালের ২৮ অক্টোবর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে জন্মগ্রহণ করেন বিশ্বের এই সর্বোচ্চ ধনী ব্যক্তি। ছোট থেকেই কম্পিউটার নিয়ে আগ্রহ ছিল তাঁর। সফটওয়্যার কী ভাবে কাজ করে, নতুন কিছু আবিষ্কার করার দিকে বরাবরই ঝোঁক ছিল তাঁর। মাত্র ১৩ বছর থেকেই কম্পিউটারের প্রোগ্রামিংয়ের বিষয় নাড়াচাড়া করতে শুরু করেন তিনি। সালটা ১৯৯৫ প্রথমবার বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির শিরোপা পান তিনি। এরপর টানা ১৮ বছর তাঁকে প্রথম স্থান থেকে কেউই সরাতে পারেননি। ১৯৭৩ সালে গণিত এবং কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশুনা শুরু করেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। কিন্তু, মাঝপথেই পড়াশুনা ছেড়ে দেন তিনি। নতুন কিছু আবিষ্কারের তাগিদে মাঝেই পড়াশুনা ছেড়ে দেন। ১৯৭৫ সালে মাইক্রোসফট সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। সেই সময় ভারতীয় মুদ্রায় দেড় লক্ষ টাকা নিয়ে শুরু হয় মাইক্রোসফটের পথচলা। সেখান থেকে এখন এই সংস্থার বার্ষিক আয় কয়েকশ কোটি টাকা। বর্তমানে ২০ হাজার কোটি ডলারের মালিক গেটস। কিন্তু, এত টাকা নিজের কাছে রাখতে একদমই নারাজ গেটস।
১৯৯৪ সালে মাইক্রোসফটেরই প্রোডাক্ট ম্যানেজার মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন গেটস। ২০২১ সালে ২৭ বছরের দাম্পত্য জীবনে ইতি টানেন তাঁরা। তাঁদের মোট তিন সন্তান রয়েছে। বড় সন্তান জেনিফার একজন প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসক। একমাত্র পুত্র ররি ইন্সটিটিউট অফ ওয়ার্ল্ড পলিটিক্সে পিএইচডি করছেন। সবথেকে ছোট সন্তান সদ্য স্নাতক হয়েছেন। ২০০০ সালে একটি সংস্থার প্রতিষ্ঠা করেন, 'বিল গেটস এবং মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন'। মূলত স্বাস্থ্য উন্নয়ন ম্যালেরিয়া, পোলিও, এইচআইভি-সহ একাধিক দুরারোগ্য ব্যধি রোগ রোধের জন্য কাজ করে। এছাড়াও, এশিয়া এবং আফ্রিকার বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় কাজ করে এই সংস্থা। এই বছর ২৫ বছর পূর্তি হতে চলেছে এই সংস্থার। সেই অনুষ্ঠানে থেকেই বিশেষ অতিথি হিসাবে ছিলেন বিল গেটস। আর সেখানে বক্তৃতা দিতে গিয়েই তিনি নিজের সম্পত্তি বিলিয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। এরপরেই শোরগোল পড়ে যায় বিশ্বজুড়ে। একটি প্রেস বিবৃতিতে গেটস জানান, নিজের সন্তানদের জন্য ১% সম্পত্তি রেখে বাকি গোটাটাই দান তহবিলে খরচ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমি সম্প্রতি প্রতিশ্রুতি দিয়েছি যে আগামী ২০ বছরের মধ্যে আমার সম্পদ দান করে দেব। সেই তহবিলের বেশির ভাগই আফ্রিকার মানুষের জন্য ব্যয় করা হবে।"
