পূজা-পার্বন
নরওয়ের দুর্গোৎসব যেন বাঙালির মিলনমেলা
অরোরার দেশে বেঙ্গলি কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের দুর্গোৎসবের সূচনা হয় ২০১০ সালে। কয়েকজন উদ্যোগী বাঙালি একত্রিত হয়ে সুদূর কলকাতার কুমোরটুলি থেকে দুর্গা প্রতিমা আনার ব্যবস্থা করেন। সংস্কৃতিমনা কিছু বাঙালির ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দশ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে গর্বের উৎসবের। দুর্গাপুজো সাধারণ ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং বাঙালি আত্মপরিচয়ের সঙ্গে মিশে থাকা এক সাংস্কৃতিক উৎসব। শরৎ এলেই নীল আকাশের বুকে সাদা মেঘের ভেলা আর হাওয়ায় দুলতে থাকা কাশফুলের ছন্দে বাঙালির হৃদয়ে বাজতে শুরু করে ঢাকের বাদ্যি। এই আবেগ আজ আর শুধু বাংলার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই, প্রবাসে থাকা বাঙালিদের হাত ধরে তা ছড়িয়ে পড়েছে পৃথিবীর নানা প্রান্তে। বাদ যায়নি তুষার আর অরোরার দেশ নরওয়েও।
সেখানকার বেঙ্গলি কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের দুর্গোৎসব যেন প্রবাসী বাঙালিদের মিলন মেলা! পুজোকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর দুর্গোৎসবের সময় রাজধানী ওসলো শহর মিনি কলকাতার রূপ নেয়। ঢাকের বাজনা, ধুনুচি নাচ, ভোগের সুগন্ধ আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মেতে ওঠেন সেখানকার বাঙালিরা। বর্তমানে এই উৎসব আর শুধুমাত্র বাঙালিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের, বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষও উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিতে হাজির হন মণ্ডপে। এছাড়াও প্রতি বছর সুইডেন, ডেনমার্ক, জার্মানি, এমনকী ব্রিটেন থেকেও অনেকে অংশ নেন ওসলোর দুর্গোৎসবে।
