পহেলগাঁওয়ে শূন্যতা আঁকড়ে ধরেছে নিহত সমীর গুহর স্ত্রীকে
স্ত্রী-কন্যার সঙ্গে কাশ্মীর বেড়াতে গিয়েছিলেন বেহালা নিবাসী সমীর গুহ। পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় বড়জোর মিনিট পনেরো আগে পৌঁছেছেন তাঁরা। আচমকাই কানে এল একের পর এক গুলির শব্দ। প্রাথমিকভাবে স্থানীয় দোকানদারেরা জানান, বিষয় তেমন কিছু না। নেহাতই বাঁদর তাড়াতে ভারতীয় সেনাকর্মীদের রোজকার প্রয়াস। তা বলে এতবার? সন্দেহ বাড়তে প্রশ্ন করেছিলেন সমীর। ততক্ষণে দেরি হয়ে গিয়েছে। জঙ্গিহানার কানাঘুষো খবর কানে আসতেই স্ত্রী, কন্যা-সহ সমীর নিজেও মাথা নিচু করে শুয়ে পড়েছিলেন মাটিতে। কলমা পাঠের ‘হুমকি’ এসে গিয়েছে ততক্ষণে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সমীরের মাথা লক্ষ্য করে গুলি চালায় এক সন্ত্রাসবাদী।
মুহূর্তে লুটিয়ে পড়ে তাঁর প্রাণহীন নিথর দেহ। চোখের সামনে পরিবারের ছাদটিকে যেন উপড়ে যেতে দেখেন মা-মেয়ে। সে অবস্থাতেই কেউ বলে ওঠে যে আবারও গুলি চলার আগে নেমে আসতে হবে উপত্যকা থেকে। কোনও দিক না ভেবেই মেয়েকে নিয়ে নেমে আসেন সমীরের স্ত্রী শবরী। স্বামী যে ছেড়েই চলে গিয়েছেন তাঁদের, সে ধারণা তখনও ধোঁয়াশায়। উৎসবের আবহে পাশে নেই কাছের মানুষ। সমীর গুহ যতদিন ছিলেন, পাড়ার পুজোয় গুরুভার একাই সামলাতেন অনেকখানি। মিশুকে মানুষ ছিলেন। কিন্তু এসবের মধ্যে কেমন আছেন স্বজনহারা শবরী গুহ? ২৬ জন পর্যটকের মৃত্যু যে অবশ্যম্ভাবী যুদ্ধ-পরিস্থিতি তৈরি করেছিল দুই প্রতিবেশী দেশের মাঝে, তা রুখতে একের পর এক ‘অপারেশন সিঁদুর’ ও ‘অপারেশন মহাদেব’ হয়ে গিয়েছে এর মধ্যেই। কিন্তু তাতে কি শবরী গুহর জীবনে কিছু বদলেছে সত্যি করে? খানিক নিঃস্পৃহ ভঙ্গিতে শবরী বলেন, “যে আঘাত আমরা পেয়েছি, এসবে তাতে বড়জোর প্রলেপ লেগেছে বলা চলে। এই ক্ষতি আদতে অপূরণীয়। কোনও কিছুর জন্যই জীবন থেমে থাকে না, তাই চলছে।”
