মতুয়া ইস্যু ও তৃণমূল
সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। দক্ষিণবঙ্গের নির্বাচনে মতুয়া ইস্য' ভোট একটা বড়ো বিষয়। আর সেখানেই গন্ডগোল বাঁধিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। সম্প্রতি একটি জনসভা থেকে মতুয়াদের সম্পর্কে অপমানজনক মন্তব্য করেন মহুয়া মৈত্র। সোশাল মিডিয়ায় বিদ্যুতের গতিতে ছড়িয়ে পড়ে সেই ভিডিও। তাতেই দানা বাঁধে বিতর্ক। সেই ঘটনায় শুক্রবার বনগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করল মতুয়া মহাসংঘের লিগাল সেল। মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন লিগাল সেলের চেয়ারম্যান মুকুল বিশ্বাস। পাশাপাশি, সাংসদের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখেছে অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘ। বনগাঁ উত্তরের বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়া বলেন, "মহুয়া মৈত্র হিন্দু ধর্মের কুলাঙ্গার। উনি পদে পদে হিন্দুদের অপমান করেন। আগে আমরা দেখেছি মা কালীকে তিনি মদ এবং মাংসের দেবতা বলেছিলেন।"
এই পরিস্থিতিতেই সোমবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বসছেন জেলা ভিত্তিক বৈঠকে। সোমবার সকালেই তাঁর বৈঠক বনগাঁর নেতা কর্মী বিধায়কদের সঙ্গে। যখন মতুয়া ইস্যুতে দলের অন্দরে বেড়েছে অস্বস্তি, সেই আবহে এই বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অভিষেকের জেলাওয়াড়ি সাংগঠনিক বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন বনগাঁ সংগঠনের নেতারাও। সম্প্রতি, মতুয়াদের প্রসঙ্গে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রের ‘অবমাননাকর’ মন্তব্য ঘিরে চড়েছে রাজনীতি। মতুয়াগড় ঘিরে তৃণমূলের মধ্যেই দেখা গিয়েছে বিভেদ। কৃষ্ণনগরের সাংসদের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠিয়েছিল আরেক তৃণমূল সাংসদ মমতাবালা ঠাকুরের অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘ। সেই চিঠিতে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার জন্য মহুয়াকে সময়ও বেঁধে দেন মতুয়ারা। এবার সেই আবহেই বনগাঁর সাংগঠনিক জেলা নেতৃত্বদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন অভিষেক। মনে করা হচ্ছে, অভিষেক সেই বৈঠকেই এমন এক সূত্র দেবেন, যাতে সাপও মরবে কিন্তু লাঠি ভাঙবে না।
