বর্ধমানের কৃষক বাপি দিল্লি থেকে পেলেন বিশেষ কৃষি সম্মান
বাপি শেখ তার সীমিত ক্ষমতার মধ্যে থেকেই আধুনিক কৃষিকে আরো বিকশিত করার চেষ্টা বহুকাল ধরেই করে আসছেন। এবার তিনি স্বীকৃতি পেলেন দিল্লির ইন্ডিয়ান এগ্রিকালচার ইনস্টিটিউট থেকে। গতানুগতিক চাষাবাদের চেনা ছক ভেঙে আধুনিক ও টেকসই কৃষিপদ্ধতিতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে জাতীয় স্তরে স্বীকৃতি পেলেন পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা ব্লকের নান্দাই পঞ্চায়েতের মির্জাপুর গ্রামের চাষি বাপি শেখ। নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে ইন্ডিয়ান এগ্রিকালচার ইনস্টিটিউটের (Indian Agriculture Institute) পক্ষ থেকে তাঁকে সম্মানিত করা হয়। গ্রামবাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে আধুনিক কৃষির সফল প্রয়োগ,এই মডেলকেই বিশেষভাবে তুলে ধরা হয় বাপি শেখের কাজের মাধ্যমে। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি রাসায়নিক সারের উপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব ও জৈব পদ্ধতিতে চাষের দিকে জোর দিয়েছেন।
নিজের বাড়িতেই গরু পালন করেন বাপি শেখ। সেই গরু থেকে পাওয়া গোবর ব্যবহার করেই তিনি নিজস্ব জৈব সার তৈরি করেন, যা তাঁর চাষের জমিতে ব্যবহার হয় নিয়মিতভাবে। এর ফলে যেমন উৎপাদন খরচ কমেছে, তেমনই জমির উর্বরতাও বেড়েছে। চাষের পাশাপাশি মাছ চাষের সঙ্গেও যুক্ত বাপি শেখ। কৃষি ও মৎস্য এই দুই ক্ষেত্রের সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তিনি একদিকে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করেছেন, অন্যদিকে আয়েও এনেছেন স্থায়িত্ব। জানা গিয়েছে,আধুনিক কৃষিযন্ত্রের যথাযথ ব্যবহার এবং বাজারের চাহিদা বুঝে ফসল নির্বাচন,এই দুইয়ের সফল মেলবন্ধনই তাঁর সাফল্যের মূল চাবিকাঠি বলে মত কৃষি বিশেষজ্ঞদের।রবি মরশুমে যেখানে রাজ্যের অধিকাংশ চাষি পাঞ্জাব থেকে আনা আলুবীজের উপর নির্ভরশীল, সেখানে বাপি শেখ নিজেই উন্নতমানের আলুবীজ উৎপাদন করে নজির গড়েছেন।
