Type Here to Get Search Results !

মানুষের মৃত্যু কি জ্যোতিষ বলতে পারে?

 জ্যোতিষশাস্ত্র 



  মানুষের মৃত্যু কি জ্যোতিষ বলতে পারে?


  এক কথায় এই প্রশ্নের উত্তর 'না'। কিন্তু ভারতীয় জ্যোতিষ এর একটা সম্ভাব্য ইঙ্গিত করতে পারে - এমন কথা বলা হয়েছে। 

শাস্ত্রীয় জ্যোতিষে কোনও ব্যক্তির মৃত্যু নির্ধারণ কখনও একটি মাত্র যোগ বা গ্রহ দেখে করা হয় না। বরং একাধিক বিষয় একসঙ্গে বিচার করা হয়। বৃহৎ পরাশর হোরা শাস্ত্রের ৪৪ নম্বর অধ্যায় অনুযায়ী এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঘর ৮ম ঘর – আয়ু, দুর্ঘটনা, হঠাৎ বিপদ ২য় ও ৭ম ঘর – মারক ঘর (Maraka House) ১২তম ঘর – হাসপাতাল, ক্ষয়, নিঃসঙ্গতা।

কোন গ্রহসংযোগকে ঝুঁকির ইঙ্গিত বলা হয়? জ্যোতিষশাস্ত্রে কিছু পরিস্থিতিকে “মৃত্যুর সম্ভাব্য সময়কাল” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, তবে চূড়ান্ত ফল বলা নিষিদ্ধ। তাই সেটি কেউই বলতে পারেন না।


  * জাতক পারিজাত অনুযায়ী


২য় বা ৭ম ঘরের অধিপতি গ্রহের দশায় শারীরিক ঝুঁকি বাড়তে পারে। ফলদীপিকা অনুযায়ী ৮ম ঘরে পাপগ্রহের প্রভাব শনি, রাহু, কেতু বা মঙ্গলের অবস্থান বা দৃষ্টি, হঠাৎ বিপদের সম্ভাবনা বাড়ায়।


  * কীভাবে সতর্ক করেছে শাস্ত্র?


  বৃহৎ পরাশর হোরা শাস্ত্রে নির্দেশ রয়েছে— “অকালমৃত্যু নির্ণয় গোপনীয় ও অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে করা উচিত।” অর্থাৎ সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো বা নির্দিষ্ট মৃত্যুর সময় বলা শাস্ত্রবিরুদ্ধ।


  আধুনিক গবেষণা বলছে— দীর্ঘমেয়াদি রোগ, জীবনযাপন, মানসিক চাপ ও চিকিৎসার অভাবই মৃত্যুঝুঁকি বাড়ায়। তাই বহু ক্ষেত্রেই “ঝুঁকির দশা” চললেও সঠিক চিকিৎসায় মানুষ সুস্থ জীবন কাটিয়েছেন।


  জ্যোতিষে মৃত্যুর ইঙ্গিত মানে নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়। এটি একটি সতর্কবার্তা যাতে মানুষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান, জীবনযাপনে পরিবর্তন আনেন, মানসিকভাবে শক্ত থাকেন।

Tags

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.