শতাব্দী প্রাচীন হাওড়ার এই সরস্বতী মন্দিরে এখনো নিত্য পুজো হয়
একদিন বা দুদিনের কথা নয়। সেই ১৯২৩ সাল থেকে প্রতিদিন সরস্বতী পুজো হয়েছে এই মন্দিরে। বসন্ত পঞ্চমীর সকালে বাংলার ঘরে ঘরে সরস্বতী বন্দনা নতুন কিছু নয়। কিন্তু বছরের ৩৬৫ দিন, ঘড়ির কাঁটা মেনে যেখানে বাগদেবীর আরাধনা হয়, সেই নজির বঙ্গে সত্যিই বিরল! হাওড়া জেলা স্কুলের প্রথম প্রধান শিক্ষক উমেশচন্দ্র দাসের বাসভবনে আজও অমলিন সেই ঐতিহ্য। বাংলার প্রাচীনতম সরস্বতী মন্দির হিসেবে পরিচিত এই দেবালয়ে গত এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চলে আসছে দেবীর নিত্যপূজা। এই মন্দিরের নেপথ্যে রয়েছে এক শিক্ষানুরাগী পিতার অপূর্ণ ইচ্ছার কাহিনি। হাওড়া জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক উমেশচন্দ্র দাস স্বপ্ন দেখতেন, বিদ্যার দেবী কেবল বছরের একদিনের অতিথি হয়ে থাকবেন না; বরং গৃহকোণে তাঁর নিত্য উপস্থিতি থাকবে। নিজের চার পুত্রকে সেই ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। যদিও জীবদ্দশায় সেই স্বপ্ন পূরণ দেখে যেতে পারেননি।
পিতার সেই ইচ্ছাকে মর্যাদা দিতে উদ্যোগী হন তাঁর পুত্র রণেশচন্দ্র দাস। ১৯১৯ সালে রাজস্থান থেকে শ্বেতপাথরের এক অপরূপ সরস্বতী মূর্তি নিয়ে আসেন তিনি। ১৯২৩ সালের স্নানযাত্রার পুণ্য তিথিতে প্রথা মেনে মন্দিরে দেবীর প্রাণপ্রতিষ্ঠা করা হয়। সেই থেকেই শুরু। আজ ১০২ বছর অতিক্রান্ত, কিন্তু একদিনের জন্যও বিরাম পড়েনি দেবীর নিত্য পূজায়। একেবারে সাবেক বাড়ির দালানে গড়ে তোলা হয়েছে এই মন্দির। দেবীর মূর্তিটি ধবধবে সাদা মার্বেলের, যা রাজস্থানি ঘরানার সূক্ষ্ম কারুকার্যে মণ্ডিত। সাধারণত বাংলার মাটির মূর্তিতে যে রূপ দেখা যায়, তার থেকে এই বিগ্রহ কিছুটা আলাদা এবং গাম্ভীর্যপূর্ণ। পরিবারের সদস্যরা জানান, গত এক শতাব্দী ধরে বংশপরম্পরায় এই পুজোর দায়িত্ব সামলানো হচ্ছে। শুধু পারিবারিক পুজো নয়, এই মন্দির এখন হাওড়ার ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
