Type Here to Get Search Results !

তির ধনুকের যোদ্ধা শিবু সোরেন সমস্ত বিতর্ক দূরে সরিয়ে রেখে পেলেন মরণোত্তর পদ্ম ভূষণ

 তির ধনুকের যোদ্ধা শিবু সোরেন সমস্ত বিতর্ক দূরে সরিয়ে রেখে পেলেন মরণোত্তর পদ্ম ভূষণ




  বিতর্ক থাকবে। কিন্তু কোনো ব্যক্তিত্বকে যদি সম্মানিত করতে হয়, তাহলে সেই বিতর্ককে দূরে সরিয়ে তাঁকে তাঁর কাজের নিরিখেই সম্মানিত করা উচিৎ। এবার তাই করা হয়েছে শিবু সোরেনের ক্ষেত্রে। স্বাধীনোত্তর আদিবাসী আন্দোলনের পথিকৃৎ ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিবু সোরেনকে মরণোত্তর পদ্ম ভূষণ দিতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। রবিবার কেন্দ্রের তরফে পদ্ম পুরস্কার প্রাপকদের যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে সেখানে পদ্ম ভূষণ সম্মানে সম্মানিত ১৩ জন কৃতির তালিকায় দেখা গেল শিবু সোরেনের নাম। ঝাড়খণ্ডের পিছিয়ে পড়া মানুষের ভালোবাসার ‘গুরুজি’ বা ‘দিশম গুরু’ শিবু সোরেন রাজ্যের ৩ বারের মুখ্যমন্ত্রী। তবে তাঁর আসল পরিচয় তিনি ঝাড়খণ্ডের এক লড়াকু নেতা। স্বাধীন ভারতের প্রায় সমবয়সি শিবুর জন্ম ১৯৪৪ সালের ১১ জানুয়ারি অখণ্ড বিহারের রামগড় জেলার নেমরা গ্রামে। পিছিয়ে পড়া সাঁওতাল উপজাতির সন্তান শিবুর স্কুলজীবন শেষ হতে না হতেই মহাজনদের গুন্ডারা শিবুর বাবাকে খুন করে। এর পর থেকেই অধিকারের লড়াইয়ে নামেন তিনি। ১৮ বছর বয়সেই সাঁওতাল নবযুবক সঙ্ঘ গঠন করেন তিনি।


  পরে যা ঝাড়খণ্ড মুক্তির মোর্চার রূপ নেয়। আদিবাসীদের অধিকারের লড়াই ও পৃথক রাজ্যের দাবিতে তির-ধনুক হাতে নেমে পড়েন খনিজ সম্পদে ভরপুর ঝাড়খণ্ডে। সাঁওতাল, কুর্মি-মাহাতদের জমি পুনরুদ্ধারের জন্য আন্দোলন সংগঠিত করেন। সাঁওতালি ভাষায় স্লোগান ওঠে ‘লাঙল যার, ফসল তার’। অল্প দিনেই ঝাড়খণ্ডের আদিবাসী মানুষের প্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। পুরোদমে নেমে পড়েন রাজনীতিতে। ১৯৭৭-এ ভোটে দাঁড়িয়ে হারলেও ১৯৮০ সালে প্রথমবার দুমকা থেকে লোকসভায় নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়েও ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা এবং শিবু সোরেনের জয়যাত্রা অব্যাহত থাকে। ১৯৮৯, ১৯৯১ এবং ১৯৯৬ সালেও লোকসভায় নির্বাচিত হন জেএমএম প্রধান। ২০০২ সালে রাজ্যসভায় নির্বাচিত হন তিনি। শিবুর আন্দোলনের জেরেই ২০০০ সালের ১৫ নভেম্বর ২৮তম রাজ্য হিসাবে পৃথক ঝাড়খণ্ড প্রতিষ্ঠিত হয়।

Tags

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.