সুন্দরবন থেকে ড্রোনে মাছ আসছে শহরে
অত্যাধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে প্রত্যন্ত সুন্দরবন থেকে দ্রুত মাছ নিয়ে যাওয়া হবে শহর বা অন্যত্র। খবরে প্রকাশ, সুন্দরবনে শুরু হল মাছ চাষে ড্রোনের পরীক্ষামূলক ব্যবহার। ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদের (ICAR) অধীন কেন্দ্রীয় অন্তঃস্থলীয় মৎস্য গবেষণা সংস্থার উদ্যোগে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বাসন্তীর কুলতলিতে সুন্দরবন কৃষ্টিমেলায় এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এদিন কুলতলিতে পরীক্ষামূলকভাবে ড্রোন ব্যবহার করা হয়। সংস্থার দাবি, এই ড্রোন প্রায় ৭০ কেজি ওজন বহন করে ৬ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ অতিক্রম করতে সক্ষম। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, সুন্দরবন এলাকাতেই প্রথম এই ড্রোনের পরীক্ষামূলক ব্যবহার করা হল। নদীনালা ঘেরা সুন্দরবনে মানুষের প্রধান জীবিকা কৃষি ও মাছ চাষ। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই মৎস্যজীবীরা তাদের উৎপাদিত মাছের ন্যায্য দাম পান না। নদী বা ভেড়ি থেকে মাছ ধরে দ্রুত বাজারে পৌঁছতে গিয়ে সমস্যার মুখে পড়তে হয় তাদের। ফলে মাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। এই সমস্যা মোকাবিলার জন্যই ড্রোন ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে কেন্দ্রীয় অন্তঃস্থলীয় মৎস্যগবেষণা সংস্থা।
ড্রোনের মাধ্যমে দ্রুত এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় মাছ ও অন্যান্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। এতে দুর্গম এলাকায় কাজ অনেকটাই সহজ হবে। নদী বা ভেড়ি থেকে মাছ দ্রুত বাজারে পৌঁছলে যেমন সময় বাঁচবে, তেমনই পরিবহণ খরচও কমবে। এই উদ্যোগ সফল হলে মৎস্যজীবী থেকে শুরু করে মাছ ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন। কেন্দ্রীয় অন্তঃস্থলীয় মৎস্য গবেষণা সংস্থা দীর্ঘদিন ধরেই মহিলাদের মাছ চাষে যুক্ত করার উপর জোর দিয়ে আসছে। ইতিমধ্যেই সুন্দরবনের পাঁচ হাজারের বেশি মৎস্যজীবীকে স্বাবলম্বী করা সম্ভব হয়েছে। চলতি বছরে আরও ১৬০০ মৎস্যজীবীর আর্থিক উন্নয়নে পদক্ষেপ করা হয়েছে।
