বাংলাদেশে হিন্দু হত্যা অব্যাহত - শুক্রবার গভীর রাতে পুড়িয়ে হত্যা করা হলো চঞ্চল ভৌমিককে
ইউনুস সরকার এখন পাকিস্তানপন্থী জঙ্গিদের হাতের পুতুলে পরিনত হয়েছে তা বেশ বোঝা যাচ্ছে। এই মুহূর্তে ইউনিউসের বাংলাদেশের একটাই এজেন্ডা ভারত ও হিন্দু বিরোধিতা। আর সুযোগ পেলেই হিন্দু হত্যা। ফের এক হিন্দু যুবককে নৃশংসভাবে খুন করা হল। জীবন্ত অবস্থায় জ্বালিয়ে দেওয়া হল। বাংলাদেশের নরসিংদীতে চঞ্চল ভৌমিক নামক এক হিন্দু যুবক (২৩) শুক্রবার রাতে দোকানের ভিতর ঘুমাচ্ছিলেন। দুষ্কৃতীরা বাইরে থেকে দোকানের শাটার টেনে, পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, যতক্ষণ পর্যন্ত চঞ্চলের পুড়ে মৃত্যু হয়নি, ততক্ষণ পর্যন্ত দুষ্কৃতীরা দোকানের বাইরেই দাঁড়িয়ে ছিল। এই ঘটনায় ফের একবার প্রমাণিত হল যে বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা দিতে যে ইউনূস প্রশাসন ব্যর্থ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৩ জানুয়ারি ঘটনাটি ঘটেছে নরসিংদীর পুলিশ লাইন্স এলাকার খানাবাড়ি মসজিদ মার্কেটে এলাকায়। ওই যুবক একটি গাড়ি ওয়ার্কশপে কাজ করতেন। তাঁর বাড়ি কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামে। চঞ্চলের বাবা নেই। বাড়িতে রয়েছে মা, বিশেষভাবে সক্ষম বড় দাদা ও ছোট ভাই। চঞ্চলই পরিবারের একমাত্র রোজগেরে ছিল। বিগত ছয় বছর ধরে ওই গাড়ি-বাইকের ওয়ার্কশপে কাজ করত এবং রাতে ওখানেই ঘুমাতো।
শুক্রবার রাতেও ওই যুবক ঘুমিয়ে ছিলেন দোকানের ভিতরে। এমন সময় দুষ্কৃতীরা এসে দোকানের শাটার টেনে, পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। জ্বলন্ত অবস্থায় দোকানের ভিতর চিৎকার করতে থাকেন ওই যুবক, কিন্তু শাটার বাইরে থেকে বন্ধ থাকায় ওই যুবক বেরিয়ে আসতে পারেননি। প্রায় ১৫ মিনিট পর শাটার খুলে দেয় দুষ্কৃতীরা। তখন বাইরে এসে যন্ত্রণায় চিৎকার করতে করতে সম্পূর্ণ দগ্ধ হয়ে যান ওই যুবক। জ্বলন্ত অবস্থা বাঁচার জন্য ওই যুবক চিৎকার করলেও কেউ ছুটে আসেনি। বরং দুষ্কৃতীরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখে তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু। নরসিংদীতে পুলিশ লাইনের পাশে এই ঘটনা হওয়ায়, গোটা ঘটনা সিসিটিভিতে ধরা পড়েছে। ওই ফুটেজে দেখা গিয়েছে, চঞ্চলকে পুড়িয়ে মারার পর দুষ্কৃতীরা নিশ্চিন্তে হেঁটে চলে যায়। এই মুহূর্তে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ না জানালে এই নির্মমতা চলতেই থাকবে। ভারত সরকারের উচিত রাষ্ট্রসংঘে দ্রুত এই নিয়ে অভিযোগ জানানো।
