আন্তর্জাতিক
ঝটিকা সফরে ভারত ঘুরে গেলেন আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট
এই মুহূর্তে ভারতের সঙ্গে বেশ ভালো সম্পর্ক আরব আমিরশাহির। বিশেষ করে তারা ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে বেশ পছন্দ করেন। খবরে প্রকাশ, মোদী আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্টকে ভারতের আসার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সোমবার সুদূর সংযুক্ত আমিরশাহি থেকে ঝটিকা সফরে ভারতে এসেছিলেন প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। তাঁকে স্বাগত জানাতে সেখানে পৌঁছে যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। তারপর মোদীর গাড়িতেই চলে বৈঠক। আমিরশাহির প্রেসিডেন্টের এই ঝটিকা সফরের কিছু মুহূর্ত নিজের সমাজমাধ্যমে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন এক্স হ্য়ান্ডেলে বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করে মোদী লিখেছেন, ‘আমরা ভাই, প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদকে স্বাগত জানাতে গিয়েছিলাম। তাঁর এই সফর ভারত-আমিরশাহির দৃঢ় বন্ধুত্বের প্রতীক।’
নয়াদিল্লি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ রক্ষায় ভারতে এসেছিলেন আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট। ছিলেন মাত্র তিন ঘণ্টা। এর মধ্য়েই নানা কূটনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা চলেছে দু’পক্ষের মধ্যে। কিন্তু কোন কোন বিষয়ে আলোচনা হল? এই মর্মে একটি তালিকা প্রকাশ করেছে বিদেশমন্ত্রক। যাতে দেখা গিয়েছে, বিভিন্ন রাজ্যে বিনিয়োগ থেকে মহাকাশ গবেষণা — নানাবিধ বিষয়ে হাত মেলাতে প্রস্তুত হয়েছে ভারত এবং আরব আমিরশাহি।
জানা যাচ্ছে দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধান বিষয়গুলো হলো -
* গুজরাটে ধোলেরায় বিশেষ বিনিয়োগ অঞ্চল নির্মাণ ও উন্নয়নের লক্ষ্য়ে স্বাক্ষর হয়েছে সম্মতি পত্র বা লেটার অব ইনটেন্ট।
* একই ভাবে মহাকাশ গবেষণার স্বার্থেও একটি লেটার অব ইনটেন্ট স্বাক্ষর করেছে ভারত-আরব আমিরশাহি।
স্বাক্ষর হয়েছে প্রতিরক্ষা সম্মতিপত্র।
* ভারতের হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড এবং আবু ধাবির ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি গ্যাসের মধ্যে বাণিজ্য বাড়াতে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে দুই পক্ষ।
* ভারতে তৈরি হবে সুপার কম্পিউটিং ক্লাস্টার, সহযোগিতা করবে আমিরশাহি।
* এই আলোচনায় বিশেষ জায়গা পেয়েছে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য। ২০৩২ সালের মধ্য়ে ভারত-আরব আমিরশাহির দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে নয়াদিল্লি-আবু ধাবি। টার্গেট ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
* আলোচনা হয়েছে পারমাণবিক সহযোগিতা নিয়েও।
* গুজরাটে তৈরি হবে আবু ধাবি ব্যাঙ্ক ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের অফিস। বাড়বে কর্মসংস্থান, প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ।
*ডিজিটাল দূতাবাস নিয়ে হয়েছে আলোচনা।
.jpeg)