শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে আদানি গোষ্ঠীর চুক্তিকে 'নিকৃষ্ট চুক্তি' বললেন ইউনুস
বাংলাদেশের অবস্থা একেই 'ভাড়ে মা ভবানী'। তার মধ্যে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট। মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। সামনেই পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন। এই পরিস্থিতিতেই বিদ্যুৎ নিয়ে মুখ খুললেন ইউনুস সরকার। এই অবস্থায় ভারতীয় সংস্থাটির সঙ্গে চুক্তি নিয়ে বিষোদগার করে পালটা কৌশল নিল ঢাকা। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত চুক্তি পর্যালোচনা জাতীয় কমিটির জানাল, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে করা চুক্তিগুলির মধ্যে আদানি চুক্তিই ‘নিকৃষ্টতম’। এর জন্য নাকি প্রতি বছরই পাঁচ থেকে ছ’হাজার টাকা অতিরিক্ত গুনতে হচ্ছে ইউনুস সরকারকে।
শেখ হাসিনা পরবর্তী বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেমন বদলে গিয়েছে, তেমনই আওয়ামি লিগ আমলের একধিক বাণিজ্যিক চুক্তি নিয়ে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হল আদানি গোষ্ঠীর থেকে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ কেনার চুক্তিটি। একদিকে যেমন ইউনুস সরকারকে বকেয়া দেনা শোধ করতে চাপ দিচ্ছে আদানি গোষ্ঠী। কিন্তু কেন ইউনুস সরকারের এই অবস্থা? কিছুটা দেশের ভিতরকার বিরোধী আন্দোলকে আদানির ও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে খেপিয়ে দেওয়া। ঢাকার তরফে বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিল নিয়ে অভিযোগ করা হচ্ছে। শুল্কে ছাড়ের দাবি জানানো হলেও এই বিষয়ে অসম্মতির কথা জানিয়ে দিয়েছে আদানি গোষ্ঠী। এর মধ্যেই গত ২০ জানুয়ারি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ উপদেষ্টার কাছে হাসিনা আমলের চুক্তিগুলির চূড়ান্ত পর্যালোচনা রিপোর্ট জমা দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, আদানির বিদ্যুৎ চুক্তি হচ্ছে সবচেয়ে খারাপ চুক্তি। কেন? পর্যালোচনা জাতীয় কমিটির দাবি, ভারতের অভ্যন্তরীণ কোনও কারণে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষতি হলে চুক্তি অনুযায়ী তার দায় নিতে হবে বাংলাদেশকে। ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের দাম যখন প্রতি ইউনিটে ৪ টাকার কাছাকাছি ছিল, তখন আদানির সঙ্গে ১৫ টাকায় চুক্তি করা হয়। পর্যালোচনা কমিটির সদস্য মোশতাক হোসেন খান বলেন, ‘‘ইতিমধ্যেই যে সব তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তা দিয়ে আদানি চুক্তি বাতিল করে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তবে এটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। অন্তর্বর্তী সরকার শেষ সময়ে এটা করতে না পারলেও রাজনৈতিক ভাবে নির্বাচিত সরকার নিশ্চয়ই পারবে। আদানির বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলাও করা যেতে পারে।’’
