'মৃত্যুপুরী আনন্দপুর' - পুলিশের প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, চালের বড়ো টিন পরে বের হবার গেট বন্ধ হয়ে গিয়েছিল
'লঙ্কাপুরী' আনন্দপুরের এমন ভয়াবহ কাণ্ডের অন্যতম কারণ প্রধান গেট খুলে কেউ বের হতে পারে নি। কিন্তু কেন গেট খুলতে পারে নি? এই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে ছিল সংসয়। আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে অভিযোগ উঠেছিল, বাইরে থেকে দরজা লাগিয়ে দেওয়ার। নিখোঁজ কর্মীদের পরিবারের বেশ কয়েকজন কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিল গুদামের মালিককে। তা হলে সেদিন কি আসলেই বাইরে থেকে দরজাটা কেউ বন্ধ করে দিয়েছিল? যার জেরে পুড়ে মরতে হয়েছিল ৮ কর্মীকে? নাকি নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ? ইতিমধ্য়েই এই ঘটনায় একটি প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট তৈরি করেছে পুলিশ। মনে করা হচ্ছে, জ্বলন্ত ওই কারখানায় বাইরে থেকে কেউ তালা মারেনি। বরং টিনের চাল ভেঙে পড়েই নাজিরাবাদের কারখানা বদ্ধভূমে পরিণত হয়।
পুলিশের ধারণা,শক্তি ব্যয় করেও সেই গেট খুলতে পারেন না ফুলের গেট সাজানোর কর্মীরা।বিকল্প গেটের সন্ধান করে তাঁরা। তাও মেলে না। সবশেষে টিনের চালটি ভেঙে বেরনোরও চেষ্টা করেছিলেন আটকে পড়া কর্মীরা। কিন্তু সেখানে গ্য়াস সিলিন্ডার ফেটে যায়। পুড়ে মৃত্যু হয় কর্মীদের। একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল মোমো সংস্থার গুদামের সামনেও। ওই গুদামের গেটের সামনেই জ্বলছিল আগুন। ফলত সেই গেটের চাবি নিজেদের হাতে থাকলেও আগুনের লেলিহান শিখার জেরে গেটের কাছ পর্যন্ত আসতে পারছিলেন না তিন মোমো সংস্থার কর্মী। সেখানেই আবার মজুদ করা হয়েছিল প্রচুর পাম তেল। কিছুক্ষণের মধ্যে সেগুলিতেও আগুন লেগে যায়। মৃত্যুর আগে প্রাণ বাঁচাতে গেট লাগোয়া একটি অফিসে ঠাঁই নিয়েছিলেন তাঁরা। সেখান থেকেই শেষবার কথা হয়েছিল পরিবারের সঙ্গে। হাজার চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা হয়নি।
