বাংলাদেশে নির্বাচনোত্তর হিংসা অব্যাহত, তারেক রহমানের শপথগ্রহণ সকালে
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরেও বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় হিংসাত্মক ঘটনার খবর আসছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা হিউম্যান রাইট সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) জানিয়েছে, নির্বাচনের পর দু’দিনে ২০০-এর বেশি হিংসাত্মক ঘটনায় প্রায় ৩০০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন, তিনজন নিহত। ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে রবিবার সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। এদিকে মঙ্গলবার সকালে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন।
ভোলার চারফ্যাশনে যুবলীগ কর্মী আব্দুর রহমানকে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে। আগের দিনই তার ছেলেকে পিটিয়ে জখম করা হয়। অভিযোগের আঙুল বিএনপির দিকে নির্দেশ করছে। শনিবার রাতে খুলনার ডুমুরিয়া-ফুলতলায় জামায়াত সমর্থকের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনাতেও বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। গাইবান্ধার পলাশবাড়ির কারাবন্দি আওয়ামী লীগ নেতা শামিকুল ইসলাম (৬০) রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যু নিয়ে রহস্য বেঁধেছে।
এক মহিলা ছোট সন্তানকে নিয়ে ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ বলায় গ্রেফতারের অভিযোগও উঠেছে। বিএনপিকে স্বাধীনতাপন্থী দল ঘোষণা করা সত্ত্বেও ক্ষমতায় আসার পর এমন ঘটনা কেন ঘটছে, তা রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এইচআরএসএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৫০-এর বেশি ব্যবসা-ঘরবাড়িতে হামলা হয়েছে, যাতে বিএনপি-জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থক জড়িত। জামায়াত নেতা শফিকুর রহমান নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
এই পরিস্থিতিতেই মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। একই দিন নবনির্বাচিত সাংসদ ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথগ্রহণ করবেন। ঐতিহ্যগত বঙ্গভবনের দরবার হলের পরিবর্তে সংসদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠান হচ্ছে। ভারতের লোকসভা স্পিকার ওম বিরলা প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধিত্ব করবেন। তাঁর সঙ্গে বিদেশ মন্ত্রকের সেক্রেটারি বিক্রম মিশ্রি থাকবেন। বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্পিকার বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্কের বার্তা দেবেন।নতুন সাংসদদের শপথ নিয়ে সাংবিধানিক জটিলতা দেখা দিয়েছে। সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদায়ী স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার এ শপথ করাবেন। কিন্তু তাঁদের অনুপস্থিতিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসিরুদ্দিন শপথবাক্য পাঠ করাবেন। সরকারি সিদ্ধান্ত এটাই। এ নিয়ে আইনি প্রশ্ন উঠলেও অনুষ্ঠান অব্যাহত থাকবে। বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ আসন জয় এই নির্বাচনকে ঐতিহাসিক করেছে।
