গণতন্ত্রের পাঠশালা চন্দ্রকোনা রোডে মক পোলে ইভিএম বন্দি হলো তরুণ প্রজন্মের উৎসাহ
আসল নির্বাচনের মহড়া নয়, যেন এক উৎসবের মেজাজ। বুথে ঢোকা থেকে শুরু করে আঙুলে কালির দাগ—সবই হলো নিয়ম মেনে। লক্ষ্য একটাই, প্রথমবার যারা ভোট দেবেন, তাদের মনে সাহস জোগানো এবং নির্বাচন প্রক্রিয়াকে হাতের মুঠোয় এনে দেওয়া। গড়বেতা তিন নম্বর ব্লকের বিডিও অফিসে আয়োজিত এই ‘মক পোল’ বা নমুনা নির্বাচন। সেখানে দেখা গেল এলাকার নতুন ভোটারদের উপচে পড়া ভিড়ও।
নির্ভীক ভোটার গড়তে অভিনব প্রয়াস ভোটের দিন বুথের ভেতর ইভিএম মেশিন নিয়ে অনেকের মধ্যেই এক ধরণের জড়তা কাজ করে। সেই জড়তা কাটিয়ে ভোটারদের ‘ভোট-স্বাক্ষর’ করে তুলতেই প্রশাসনের এই উদ্যোগ বলে জানা গেছে। বিশেষত ১৮ থেকে ২০ বছর বয়সী যুবক-যুবতীদের মধ্যে এই মহড়া নিয়ে প্রবল কৌতূহল দেখা যায়। এদিন প্রতিটি ধাপে নির্বাচনের প্রকৃত পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। লাইনে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে পরিচয়পত্র যাচাই এবং পরিশেষে ইভিএম-এর বোতাম টেপা—পুরো বিষয়টা হয়েছে নিখুঁতভাবে। ইভিএম-এর পাশাপাশি ভিভিপ্যাট (VVPAT) যন্ত্রটি কীভাবে কাজ করে এবং নিজের দেওয়া ভোটটি সঠিক প্রতীকে পড়ল কি না, তা যাচাই করার পদ্ধতিটি যুবকদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়। ভোট নিয়ে প্রচলিত নানা ভ্রান্ত ধারণা ও ভয় দূর করতে নির্বাচন আধিকারিকরা এদিন ভোটারদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। উপস্থিত তরুণ ভোটারদের কথায়, "এতদিন টেলিভিশনে ভোট হতে দেখেছি, আজ নিজে বোতাম টিপে ভোট দিয়ে বুঝলাম প্রক্রিয়াটি কতটা সহজ ও স্বচ্ছ।"
গণতন্ত্রের উৎসবে আগাম জোয়ার
এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত আধিকারিকদের মতে, একটি সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য সচেতন ভোটার অত্যন্ত জরুরি। চন্দ্রকোনা রোডের এই উদ্যোগ কেবল ভোটদান শেখানো নয়, বরং নাগরিক অধিকার সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করার একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। স্থানীয় প্রশাসনের আশা, এই মহড়ার প্রভাবে আগামী নির্বাচনে এলাকায় রেকর্ড সংখ্যক ভোট পড়বে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলা এই মহড়া শেষে যুবকদের চোখে-মুখে ধরা পড়ল এক অদ্ভুত তৃপ্তি। তারা যেন শুধু ভোট দিতেই শিখলেন না, বরং আগামীর শক্তিশালী ভারত গড়ার কারিগর হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করে তুললেন।
.jpeg)