Type Here to Get Search Results !

৭০৪ বছর পর বাংলায় বসল বঙ্গ কুম্ভমেলা: কল্যাণী গঙ্গাতীরে ৪০০ নাগা সাধুর শাহিস্নান, বিশ্বশান্তি যজ্ঞ

 ৭০৪ বছর পর বাংলায় বসল বঙ্গ কুম্ভমেলা: কল্যাণী গঙ্গাতীরে ৪০০ নাগা সাধুর শাহিস্নান, বিশ্বশান্তি যজ্ঞ






 প্রয়াগরাজের কুম্ভের ছোঁয়া এবার বাংলার বুকে। নদিয়ার কল্যাণী মাঝেরচর গৌরাঙ্গ প্রভুর ঘাটে বঙ্গ কুম্ভমেলা পরিষদের উদ্যোগে ১০ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পরিচালিত হলো বঙ্গ কুম্ভমেলা। দেশের ১২টি অখাড়া থেকে ৪১২ নাগা সাধু-সন্ন্যাসী অংশ নেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি গঙ্গায় শাহিস্নান এর মধ্যে হাজারো দর্শনার্থীর ভিড় জমে। উদ্যোক্তারা দাবি করেন, ১৩২২ সালের পর প্রথম এই আয়োজন (ঐতিহাসিক তথ্য: তৎকালীন সুলতান গিয়াসউদ্দিন তুঘলকের আমলে কল্যাণীতে কুম্ভের উল্লেখ পাওয়া যায় মধ্যযুগীয় গ্রন্থে)।মেলায় বিশ্বশান্তি মহাযজ্ঞ, গঙ্গারতি, ধর্মসভা, সাধু-সন্ন্যাসীদের দর্শন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিদিন গড়ে ২০ হাজারের বেশি দর্শক সঘন করেন। নিরাপত্তার জন্য পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং মেডিকেল টিম মোতায়েন ছিল। পরিষদ সভাপতি শ্রীমৎ রঞ্জিতানন্দ গিরি মহারাজ বলেন, “৭০৪ বছর পর বঙ্গে কুম্ভের পুনরুজ্জীবন। ৪১২ নাগা সাধুসহ সকল সম্প্রদায় একত্রিত হয়েছে। এটি ধর্মের জয়গান।”জুণা অখাড়ার মহামণ্ডলেশ্বর স্বামী অবিমুক্তানন্দ গিরি বলেন, “কল্যাণীর গঙ্গাতীরে শাহিস্নান অভিজ্ঞতা অপূর্ব। প্রয়াগরাজের মতোই পবিত্র। বাংলার সনাতন ঐতিহ্য জাগরিত হলো।” আরবিন্দো অখাড়ার স্বামী নিরঞ্জনানন্দ মন্তব্য করেন, “যজ্ঞে বিশ্বশান্তির প্রার্থনা করা হলো। উত্তরবঙ্গ থেকে আমরা এসেছি। এমন মেলা বছরে একবার হোক।” নির্বানী অখাড়ার মহাত্মা রামভদ্র দাস বলেন, “দর্শকদের ভক্তি দেখে মন ভরে গেল। গঙ্গামায়ের কৃপায় সব সফল।”প্রত্যেক সকালে মহাআরতি, সন্ধ্যায় কীর্তন-ভজন মেলার পরিবেশকে পবিত্র করে তোলে। স্থানীয়বাসী রামকান্ত দাস বলেন, “কল্যাণীতে কুম্ভ—অকল্পনীয়। পরিবারসহ এলাম।” মেলা শেষে সাধুরা কল্যাণী ছেড়ে চলে যান। পরিষদ জানায়, আগামী বছর আরও বড় আয়োজনের পরিকল্পনা।

Tags

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.