প্রতীক উরের পদত্যাগ - বামপন্থীদের মধ্যে চূড়ান্ত বিতর্ক
বাম্পন্থা একটা আদর্শ। সেই আদর্শকে ভিত্তি করেই সিপিএমের বিস্তার ও অগ্রগতি। অনেকেই মনে করেন আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছে বলেই সিপিএম জনসমর্থন হারিয়েছে। তা নিয়ে বিতর্ক যাই থাকুক, এই মুহূর্তে বিতর্কের কেন্দ্র প্রতীক উর রহমান। গত ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের সময় ডায়মন্ড-হারবার থেকে তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বামেদের হয়ে লড়েছিলেন প্রতীক-উর-রহমান। সিপিএম-এর তরুণ তুর্কী অভিষেকের বিরুদ্ধে জিততে না পারলেও, মাঠে থেকে লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন। ছাড়েননি এক ইঞ্চি জমিও। বর্তমানে এ রাজ্যে শূন্য সিপিএম। না আছে সাংসদ, না আছে বিধায়ক। এই অবস্থায় ভোটের ঠিক আগে আগে প্রতীক-উরের মতো একজন তরুণ মুখ চলে যাওয়া মানে দলের কত বড় ক্ষতি তা হারে-হারে বুঝেছেন সিপিএম-এর নেতা-নেত্রীরা।মূলত, তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বামেদের জোট নিয়ে আলোচনা ভালভাবে মেনে নিতে পারেননি প্রতীক-উর। বিশ্লেষকদের ধারণা, হতে সেই কারণে দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সোমবার বলেছেন, “ব্যক্তিগতভাবে আমার সঙ্গে কারও বিরোধ নেই। আমার যা বলার আমি পার্টিকে বলেছি। সর্বোচ্চ নেতৃত্বের তরফে এখনও আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি। এটা তো দলের আভ্যন্তরীণ বিষয় এটা আমি সবার সামনে বলব না।"
এই ব্যাপারে এবার কিছুটা দূরত্ব রেখেই মুখ খুলেছেন মীনাক্ষী মুখার্জী। মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় বলেন, “আমি দেখলাম ফেসবুকে। আমাদের পার্টির নেতৃত্বরা রয়েছেন। গোটা বিষয় তাঁরা বলবেন।” দলে প্রতীক-উরের প্রয়োজনীয়তার হালকা আভাস দিয়ে তিনি বলেন, “ও আমাদের পার্টির নেতা। গোটা রাজ্যজুড়ে আমাদের পার্টির কমরেডরা লড়াই করছেন। প্রতীক-উরও লড়াই করেছেন। সব কর্মীরা দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করেছেন। যে কোনও একজন কর্মী পার্টির কাজ না করেন দলে থেকে, তাহলেও আমাদের ক্ষতি। আর আমাদের ক্ষতি মানে খেটে খাওয়া মানুষের ক্ষতি। সেই ক্ষতির বিরুদ্ধে লড়াই হচ্ছে।” অর্থাৎ শুধু প্রতীক-উর নয়, সকলেই যে গুরুত্বপূর্ণ সেটাই বুঝিয়েছেন বাম নেত্রী। ইতিমধ্যে সমাজ মাধ্যমে ভরে গেছে প্রতীক উর বিতর্ক। কমবেশি প্রায় সকলেই বলেছেন, প্রতীক উরের মতো যুব নেতা দলে অপরিহার্য।
