আন্তর্জাতিক
সমস্ত মানবিক নিয়মের তোয়াক্কা না করে ইরান ঠিক করেছে ১২ বছর হলেই সেনায় নিয়োগ করা যাবে
আমেরিকার বিরুদ্ধে বেশ একটা শক্তিশালী সেনাবাহিনী গঠন করতে চলেছে ইরান। তাই সেনাবাহিনীতে যোগ দেবার বয়সসীমা এক ধাক্কায় অনেকটা কমিয়ে ১২ বছর করলো ইরান সরকার। জানা যাচ্ছে, যুদ্ধের জেরে সেনায় যোগ দেওয়ার ন্যূনতম বয়সসীমা কমিয়ে ১২ বছর করা হয়েছে। আপৎকালিন পরিস্থিতিতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের (IRGC) তরফে ‘For Iran’ নামক এক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যার মাধ্যমে যুদ্ধে সহায়কের ভূমিকায় নিয়োগ করা হচ্ছে, ১২ বছরের শিশুদেরও। আইআরজিসির শীর্ষ আধিকারিক রহিম নাদলি দেশের সরকারি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, যুদ্ধের জেরে দেশ রক্ষার্থে ইরানের যুবসমাজ সরাসরি সেনায় যোগ দিচ্ছে। অল্পবয়সিরাও ভিড় করতে শুরু করেছে যুদ্ধে যোগ দেওয়ার জন্য। দেশের প্রতি তাদের ভালবাসাকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা সেনায় যোগ দেওয়ার ন্যূনতম বয়সসীমা কমিয়ে ১২ বছর করেছি। এখন থেকে ১২-১৩ বছরের বালকরাও সেনাবাহিনীকে সাহায্যের কাজে নিযুক্ত হবে।
‘ফর ইরান’ উদ্যোগের মাধ্যমে এই বালকরা টহল, চেক পয়েন্ট পাহারা ও রসদ সরবরাহের মতো কাজে সহায়কের ভূমিকা পালন করবে। তবে ইরানের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিতে শুরু করেছে। কারণ যুদ্ধক্ষেত্রে শিশুদের নিয়োগ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। তবে সেনাবাহিনীতে শিশুদের ব্যবহারের অভিযোগ ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নয়। জানা যায়, ২০২২ সালে মাহসা আমিনি হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে তৈরি হওয়া বিক্ষোভ দমনে এই বালক সেনাদের নামিয়েছিল ইরান প্রশাসন। সেই সময় শিশু-কিশোরদের সেনার পোশাক পরিহিত সশস্ত্র ছবি সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলি ইরানের এই ধরনের কার্যকলাপের ব্যাপক নিন্দা করেছে আগেও।
