রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনে কৃতি ছাত্র প্রয়াত চন্দ্রনাথ রথকে আমরা হারালাম
৯ তারিখ ব্রিগেডে শপথ। আর তার ঠিক আগেই শুভেন্দুর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথকে হত্যা করা হল। কিন্তু কে এই চন্দ্রনাথ? বুধবার রাতে চারচাকা গাড়িতে ফ্ল্যাটে ফেরার পথে দুষ্কৃতীরা তাঁর গাড়ির সামনে একটি গাড়ি দাঁড় করিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। তারপরই বাইকে করে আসা দুই দুষ্কৃতী খুব কাছ থেকে পরপর গুলি চালায়। রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তাতেই লুটিয়ে পড়েন চন্দ্রনাথ। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে মধ্যমগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তাঁর গাড়ির চালক বুদ্ধদেব বেড়াও। তাঁর বুকের বাঁদিকের পাঁজরে গুলি লেগেছে বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুভেন্দু অধিকারীর মতোই চন্দ্রনাথ রথও পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা। বাড়ি চণ্ডীপুর এলাকায়। পড়াশোনা রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনে। এরপর যোগ দিয়েছিলেন ভারতীয় বায়ুসেনাতে। কিন্তু বেশিদিন সেই চাকরিতে থাকতে পারেননি। শোনা যায়, চন্দ্রনাথের নাকি ছোট থেকেই আধ্যাত্মিক পথে এগানোর ইচ্ছা ছিল। কিন্তু সেই ইচ্ছা সফল হয়নি। বায়ুসেনার চাকরি থেকে স্বেচ্ছাঅবসর নিয়ে একটি কর্পোরেট সংস্থায় যোগ দিয়েছিলেন।
অন্যদিকে চন্দ্রনাথের পরিবারের সঙ্গেও দীর্ঘদিনের রাজনীতির যোগ রয়েছে। পরিবারের সবাই একটা সময় তৃণমূল করতেন। যদিও এখন চন্দ্রনাথের মা হাসি রথ বিজেপিতে রয়েছেন। শুভেন্দুর অধিকারীর সঙ্গে দীর্ঘসময় ধরে কাজ করছিলেন চন্দ্রনাথ। জানা যায়, ২০১৯ সালে যখন তিনি জলসম্পদ দপ্তরের মন্ত্রী হন, সেই সময় চন্দ্রনাথ তাঁর আপ্তসহায়ক হয়েছিলেন। আর সেই সময় থেকে একেবারে ছায়াসঙ্গী হিসাবে কাজ করে যাচ্ছিলেন বছর ৪০ এর ওই যুবক। বিরোধী দলনেতা হিসাবে যখন শুভেন্দু দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন, সেই সময় তাঁর দপ্তরের সমস্ত কাজ চন্দ্রনাথ দায়িত্ব নিয়ে সামলেছিলেন। শোনা যাচ্ছিল, শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হলে বড় দায়িত্ব পেতে পারেন চন্দ্রনাথ। কিন্তু তার আগেই সব শেষ।
