পূজা পার্বন
ভুবনেশ্বরী পূজার বিভিন্ন উপাচার
ভুবনেশ্বরী পূজা হলো দশমহাবিদ্যার চতুর্থ রূপ দেবী ভুবনেশ্বরীর আরাধনা, যিনি মহাবিশ্বের নারী শক্তি এবং সৃষ্টির সঞ্চালিকা হিসেবে পূজিত হন। সমৃদ্ধি, সুখ, ও জীবনের বাধা দূর করতে ভক্তরা এই পূজা করেন। এই পূজা সাধারণত মঙ্গলবার বা পূর্ণিমা তিথিতে, বিশেষ করে ভাদ্রপদ মাসের শুক্ল দ্বাদশী তিথিতে (ভুবনেশ্বরী জয়ন্তী) করা হয়।
* ভুবনেশ্বরী পূজার মূল দিকগুলি:দেবীর স্বরূপ: মা ভুবনেশ্বরী 'জগন্মাতা' বা 'জগদ্ধাত্রী' নামেও পরিচিত, যিনি মহাবিশ্বের পঞ্চভূত (আকাশ, বায়ু, পৃথিবী, আগুন, জল) ধারণ করেন।
* পূজার উদ্দেশ্য: আর্থিক সমৃদ্ধি, আধ্যাত্মিক উন্নতি, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং শত্রু বা নেতিবাচক প্রভাব থেকে রক্ষার জন্য এই পূজা করা হয়।
* পূজা বিধি:প্রস্তুতি: ঘর ও পূজার স্থান পরিষ্কার করে উত্তর বা পূর্ব দিকে মুখ করে বসতে হয়।
* উপকরণ: লাল বা হলুদ কাপড়, দেবীর ছবি বা মূর্তি, ধূপ, প্রদীপ, লাল ফুল, ফল, মিষ্টি, কুমকুম, হলুদ, এবং কলশ স্থাপন।
* মন্ত্র: পূজার সময় ভুবনেশ্বরী মন্ত্র (যেমন: "ওঁ হ্রীং শ্রীং ক্লীং ভুবনেশ্বর্যৈ নমঃ") ১০৮ বার জপ করা হয়।
* ভোগ ও আরতি: পূজার শেষে ভোগ নিবেদন এবং আরতি করা হয়।বিশেষ পূজা: অনেক জায়গায়, বিশেষ করে শ্রী ভুবনেশ্বরী মন্দির-এ প্রতি শুক্রবার শ্রী মহা মেরুর সাথে বিশেষ পূজা ও মন্ত্র জপ করা হয়।দেবী ভুবনেশ্বরীর পূজা মানুষকে ভয়হীনতা এবং সাফল্যের পথে নিয়ে যায় বলে বিশ্বাস করা হয়।
