শেষ পর্যন্ত গঠিত হল 'নব তৃণমূল ব্লক’
নির্বাচনের ফল বেরোনোর এক মাসের মধ্যে এইভাবে ভেঙে যাবে তৃণমূল তা কেউ কল্পনাও করেন নি। তৈরী হলো নতুন তৃণমূল, যার নাম দেওয়া হয়েছে সম্ভবত - ‘নব তৃণমূল ব্লক’। ভোটের রেজাল্ট বেরনোর দু’মাসও কাটেনি তার আগেই ছাড়খার হয়ে গেল তৃণমূল কংগ্রেস। হয়ে গেল দু’টুকরো। একটি আদি তৃণমূল, অন্যটি হল ‘নব তৃণমূল ব্লক’। নতুন এই তৃণমূলের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)। উপ-দলনেতা হলেন শিউলি সাহা ও জাভেদ খান, সন্দীপন সাহাও (Javed Khan)। বুধবার ৫৮ জন বিধায়কের সই নিয়ে বিধানসভায় প্রবেশ করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিরোধী দলনেতা কে হবেন সেই সই নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে ধরে চওড়া ফাটল। ইতিমধ্যেই সেই সই জালিয়াতি কাণ্ডে তদন্তে নেমেছে সিআইডি (CID)। তৃণমূলেরই দুই বিধায়ক (সন্দীপন সাহা ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়) সই জালিয়াতির বিরুদ্ধে অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ জানেন। তারপর দল এই দুজনকে বহিষ্কার করে। এরপর কালীঘাটের নিয়ন্ত্রণ ভেঙে ঋতব্রতর নেতৃত্বে ৫৮ জন নব তৃণমূলের ব্লকের বিধায়ক বিরোধী দলনেতা হিসাবে সর্বসম্মতিক্রমে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসাবে মেনে নেন। এদিন, তাঁরা নিজেদের মধ্যে মিটিং করেন। এরপর তাঁদের সই করা চিঠি জমা পড়ে অধ্যক্ষের কাছে। তবে এখানে উল্লেখ্য, এই সকল বিধায়করা কিন্তু নতুন কোনও দল গঠন করেননি। এরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নিজেদের সর্বময় নেত্রী মানছেন। তবে, তাঁরাই প্রকৃত তৃণমূল ব্লক। আর এই ব্লককেই সংখ্যার বিচারে স্বীকৃতি দিচ্ছে বিধানসভা। বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক বলেন, ” কারা কী জন্য কী করেছেন। তাঁরা চিঠি দিয়েছেন, আইনি পথে যা হবে তারা খতিয়ে দেখবেন। এরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি নিয়ে প্রচার করেছেন, তৃণমূলের প্রতীকে জিতেছেন। এখন এরা নেত্রীকে উপেক্ষা করে অন্য কোনও প্ররোচনায় অন্য কোনও স্বার্থে কিছু করতে যান তাহলে সাধারণ তৃণমূল কর্মীরা ও মানুষ দেখবেন।"