Type Here to Get Search Results !

রহস্যতে মোড়া কপালিনী দেবীর মন্দির

 ধর্মকথা 


রহস্যতে মোড়া কপালিনী দেবীর মন্দির



  সারা ভারতে এমন অনেক মন্দির আছে, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক রহস্য। তেমনই এক মন্দির ভুবনেশ্বরের কপালিনী দেবীর মন্দির।মন্দিরের ভিতর জ্বলছে নিভু-নিভু আলো। তাতে চোখ সয়ে গেলে দেখা যাবে দেবীর মুখ। কালো পাথরে খোদাই করে তৈরি দেবীর ভয়াবহ মুখভঙ্গি দেখলে শরীর ঠান্ডা হয়ে যায় যেন। আজকের আলোকোজ্জ্বলতার সময়ে দাঁড়িয়েও এই মন্দিরের দিকে তাকালে মনে হয়, যেন পৌঁছনো গিয়েছে শতাব্দীপ্রাচীন কোনও সময়ে। আজও এই মন্দিরকে ঢেকে রেখেছে রসহ্যের আবরণ। মন্দিরের শহর ভুবনেশ্বরে শত শত প্রাচীন দেবালয়ের ভিড়ে অন্যতম বৈতাল দেউল। অষ্টম শতকে ভৌম-কর রাজবংশের শাসন কালে নির্মাণ হয়েছিল। এখানকার অধিষ্ঠাত্রী দেবী  চামুণ্ডা। ‘একমরা ক্ষেত্র’ ভুবনেশ্বরের অষ্ট চণ্ডীর একজন এই দেবী। তবে এখানে তিনি ধরা দেন দেবী কপালিনী (Devi Kapalini) নামে। এই মন্দিরের মিল ওড়িশার গুরুত্বপূর্ণ শক্তিপীঠগুলোর সঙ্গে থাকলেও, আদতে এ এক তান্ত্রিক উপাসনাকেন্দ্র।


  বৈতাল দেউল কলিঙ্গ স্থাপত্যের বিরল খাখরা শৈলীর অন্যতম সেরা নিদর্শন হিসেবেও পরিচিত। মন্দিরের গর্ভগৃহে বিরাজমান মা কপালিনীর মূর্তি প্রথম দর্শনেই বিস্মিত করে। দেবীকে ভয়ংকর রূপে কল্পনা করা হয়েছে এখানে। তিনি দশভুজা, গলায় ঝুলছে নরমুণ্ডের মালা। হাতে ত্রিশূল, তলোয়ার, ধনুক, সর্প, বজ্র-সহ নানা অস্ত্র। মৃতদেহের উপর আসীন দেবী। তাঁর দুই পাশে রয়েছে শৃগাল ও পেঁচা। এই দুই প্রাণী তন্ত্রশাস্ত্রে মৃত্যু, সময়, অন্ধকার ও গুপ্ত জ্ঞানের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। দেবীর এই রূপ ভয় প্রদর্শনের জন্য নয়; বরং অহংকার, ভয়, মায়া এবং মৃত্যুভীতিকে জয় করার আধ্যাত্মিক বার্তা বহন করে।

Tags

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.