অভিষেকের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় কি এবার বিজেপিতে যাচ্ছেন?
মমতা তৃণমূল আরো ছন্নছাড়া। একে একে প্রায় সকলেই পালাচ্ছেন মমতাকে ছেড়ে। এবার কি রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ও যাওয়ার পথে? একুশের বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল ছেড়েছিলেন। বিধানসভা থেকে বেরনোর সময় নিজের ঘরে টাঙানো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিটি তিনি বুকে আগলে নিয়ে যান। তাতেই বুঝিয়েছিলেন, দলনেত্রীর প্রতি তিনি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু দলের একাংশের ‘একচেটিয়া’ মনোভাবের কারণেই তৃণমূল ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। এরপর রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিতে যোগ দেন। ২০২১ সালে নিজের কেন্দ্র ডোমজুড় থেকে বিজেপি প্রার্থী হন। কিন্তু তৃণমূল প্রার্থীর কাছে পরাজয় হয় তাঁর। এর বছর খানেকের মধ্যেই ফের তৃণমূলে ফেরেন রাজীব। ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘গড়’ ডোমজুড় থেকে সরিয়ে তাঁকে ডেবরার প্রার্থী করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নতুন জায়গায় নির্বাচনী লড়াই জিততে কম পরিশ্রম করেননি রাজীব। কিন্তু শেষমেশ শিঁকে ছেড়েনি। ডেবরায় বিজেপি প্রার্থী হইহই করে জিতেছেন।
হারের পর একেবারে আড়ালে চলে গিয়েছিলেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় আড়াই মাস পর ফের প্রকাশ্যে এলেন। নিজের ফেসবুকে কভার ছবি থেকে সরিয়ে দিলেন মমতা, অভিষেককে। শুধুমাত্র নিজের ছবি দিলেন, যেখানে লেখা – মানুষের সাথে, মানুষের পাশে। অর্থাৎ নিজের ক্ষোভ তিনি সামনে আনলেন। এনিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাজীবের স্পষ্ট বক্তব্য, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশেপাশে সবাই বলছেন যে অভিষেক থাকলে তাঁরা দল করবেন না। অভিষেক সরে গেলে সকলে আবার একজোট হয়ে দিদির পাশে থাকবেন। কিন্তু আমি বুঝতে পারছি না যে এখনও কেন দিদি অভিষেকের হাতটা ধরে আছেন। এটা আমাদের নেতাদের কথা নয়, তৃণমূল কংগ্রেসের অগণিত সাধারণ কর্মীদের মনের কথা এটাই। আমার বক্তব্য হল, রাজনীতি করা মানুষের জন্য। সেই কাজই যদি না করতে পারি, কেন দলে থাকব?” তাঁর আরও বিস্ফোরক অভিযোগ, ‘‘অভিষেক আমার রাজনৈতিক কেরিয়ার, পরিবার সব শেষ করে দিয়েছে। যেসব আসন আইপ্যাক তাঁকে বিক্রি করে দিয়েছে, সেখানেই পরাজয় ঘটেছে দলের প্রার্থীদের।”
