আন্তর্জাতিক
অধিকৃত কাশ্মীরে পাকিস্তানি হিংসা অব্যাহত, সংঘর্ষে নিহত ১২, দমন লুকোতে মিডিয়া নিষিদ্ধ!
অধিকৃত কাশ্মীরে পাকিস্তানের নৃশংসতা অব্যাহত। গতকাল রাওয়ালকোটের বাস টার্মিনালে পাক সেনার গুলিতে মৃত্যু হয় ৬ বিক্ষোভকারীর। বুধবার আরও ১২ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। পিওকেতে আন্দোলনের মাত্রা বাড়ায় নতুন করে ৪০০০ হাজার জওয়ান মোতায়েন করেছে প্রশাসন। লাগাতার দমন-পীড়নে একাধিক প্রতিবাদীর মৃত্যুর পর বুধবার দুপুরে বিরাট মিছিল হয় রাওয়ালকোট থেকে মুজাফফরাবাদে। বিবিসি উর্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভ ঠেকাতে অধিকৃত কাশ্মীরের শহরগুলিকে কার্যত দুর্গে পরিণত করেছে প্রশাসন। রাওয়ালকোটে সাংবাদিকদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ। সাধারণ নাগরিকদের বিক্ষোভ, দমন-পীড়নের খবর আড়াল করতে পিওকেতে সাংবাদিকদের কার্যত প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, প্রায় মাসাধিককাল জুড়ে পাকিস্তানি প্রশাসনের আমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে এবং নাগরিক অধিকারের দাবিতে বিক্ষোভ চলছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে। ক্রমশ সেখানে হিংসার আগুন ছড়াচ্ছে। নতুন করে দুই জওয়ান-সহ ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে অধিকৃত কাশ্মীরে ইসলামাবাদের লাগাতার দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে নিন্দায় সরব হয়েছে ভারত। নয়াদিল্লি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এহেন আচরণ পরিকল্পিত শোষণ ছাড়া আর কিছু নয়। মঙ্গলবার বিদেশমন্ত্রক একটি বিবৃতি জারি করে। সেখানে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “এই অঞ্চল অবৈধ ও বলপূর্বক দখল করে রেখেছে পাকিস্তান। কয়েক দশক ধরে পরিকল্পিত শোষণ, মৌলিক অধিকার হরণ এবং প্রশাসনিক নিপীড়নের ফলেই সেখানকার মানুষ আজ গর্জে উঠেছেন।” তিনি আরও বলেন, “সেখানকার মানুষদের দাবিগুলি শোনার পরিবর্তে পাকিস্তান বলপ্রয়োগ করছে।” বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, অধিকৃত কাশ্মীরের নারী, শিশু-সহ সাধারণ মানুষের উপর চরম দমন-পীড়ন চলছে। বন্ধ খাদ্য, ওষুধ-সহ জরুরি সরবরাহ। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘এহেন চরম দুর্ব্যবহারের জন্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানকে জবাবদিহি করতে হবে।’
