আন্তর্জাতিক
মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ মার্কিনি হামলা, উত্তর দিচ্ছে ইরান
দুপক্ষ যুদ্ধ করছে আর প্রাণ হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ। শেষ পর্যন্ত শান্তি চুক্তি কেউই মানে নি। ফলে নতুন করে শুরু হয়েছে যুদ্ধ। হরমুজে ভারতীয় নাবিকবাহী জাহাজে ইরানের হামলাকে কেন্দ্র করে ফের যুদ্ধের আগুন লাগল মধ্যপ্রাচ্যে। রবিবার ইরানের কেশম, সিরিক, বন্দর আব্বাস, জাস্ক, বুশেহর-সহ ১৪০টি জায়গায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল আমেরিকা। এর জবাবে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে এলোপাথাড়ি হামলা শুরু করল ইরান। সোমবার কুয়েত, বাহরিনের একের পর এক মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে আইআরজিসি। এই হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার পেট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, গোলাবারুদের ডিপো এবং ড্রোন অবকাঠামোকে কার্যত ধ্বংস হয়েছে। মার্কিন হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহারিনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। পাশাপাশি হামলা হয়েছে কাতার, ওমান এবং জর্ডানেও। আইআরজিসি-র মতে, কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটির জ্বালানি ট্যাঙ্ক ও প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং আহমেদ আল-জাবের বিমানঘাঁটির রাডার ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এর আগে বাহরিনের ইসা বিমান ঘাঁটিতে হামলার দায়ও স্বীকার করে ইরান।
আইআরজিসি জানিয়েছে, এখানে মার্কিন সেনার একটি হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, একটি পি-৮ বিমানের হ্যাঙ্গার এবং একটি মার্কিন সামরিক ড্রোন কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টারকে ধ্বংস করা হয়েছে। এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেইনির উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই বলেন, পরমাণু বোমার চেয়েও ইরানের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী।আইএসএনএ সংবাদ সংস্থার মতে, রেজাই বলেছেন ইরান যে কোনও মূল্যে হরমুজ প্রণালী রক্ষা করবে। উল্লেখ্য রবিবার সকালে ওমান উপকূলের কাছে সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছিল ইরান। তেহরানের দাবি ছিল, বৈধ অনুমতি ছাড়াই ওই পথ ধরে যাচ্ছিল জাহাজটি। ইরানের হামলার পর জাহাজে থাকা ১১ জন ভারতীয়ের মধ্যে ১০ জনকে উদ্ধার করা হলেও একজনের খোঁজ পাওয়া যায়নি।