পদ্মের বাংলায় এবার রাজকীয় রথযাত্রা
রথের উৎসব কিছুটা হলেও বাংলায় বঞ্চিত ছিল। এবার নতুন সরকারের সময় নতুন উদ্যোগে বেশ আড়ম্বারের সঙ্গেই হয়ে চলেছে রথ উৎসব। এবার বাংলায় বড় করে রথ। রথযাত্রা এবার উৎসব।বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘মানুষ হয়তো এতদিন ভয়ে বেরোতে পারেনি। রথযাত্রায় অংশ নিতে পারেনি। যেমন মুর্শিদাবাদ, মালদহ, দিনাজপুরের বহু জায়গায় মানুষ সন্ধ্যায় শাঁখ বাজাতে পারে না। মৌলবাদীরা, ধর্মান্ধরা এবারে চুপ করে গিয়েছে। তাই আরও মানুষ সাহস পেয়েছে। ভয় চলে গিয়েছে। ভরসা বেরিয়ে পড়েছে। মানুষ নেমে পড়বে রথে ৷’’ রথ মানে শুধু কাঠ আর দড়ি নয়। রথ মানে অপেক্ষা। রথ মানে মেলা। রথ মানে পাপড়, জিলিপি-র গন্ধ। ছোটবেলায় ফিরে যাওয়া। রথ হাজার বছরের সনাতন সংস্কৃতির প্রতীক। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে রথের জৌলুস বা আবেগের প্রকাশে কোথায় যেন খামতি দেখা যেত। এবার আর তা থাকছে না।
এবার রথ নিয়ে বাঙালির আবেগকে গুরুত্ব। সনাতনী সংস্কৃতির রথের চাকাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এই দুইকে সামনে রেখেই বাংলায় এবার বড় করে রথ। পুরাণ অনুযায়ী, রথে চড়ে প্রভু জগন্নাথ বের হন ভক্তকে দর্শন দিতে। অনেকের বিশ্বাস, একবার রথের দড়ি ছুঁলে নাকি জন্ম-জন্মান্তরের পুণ্য হয়। রথযাত্রা তাই বাঙালির কাছে ভক্তি, আনন্দ আর আবেগের মিলনমেলা। এবার এই রথেই বিশেষ নজর বাংলার নতুন সরকারের। পদ্মের বাংলায় এবার রাজকীয় রথযাত্রা। বাংলায় রথের সংখ্যাবৃদ্ধি প্রায় ৩ গুণ।মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই ঘোষণা করেছিলেন, ‘‘যে সমস্ত রথযাত্রাগুলি দশকের পর দশক ধরে হয়। প্রাথমিকভাবে এমন ৬০টি রথযাত্রা কমিটিকে আমরা ৫ লক্ষ টাকা করে সরকারি সহায়তা আজকে প্রদান করব। যে সমস্ত ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা কমিটি আজকে সরকারের এই সামান্য যোগদানে কিছুটা উপকৃত হলেন, তাদের আমি বলব পুরেনো ঐতিহ্যবাহী রথগুলো রক্ষণাবেক্ষণ, সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। সেই কাজে আপনারা সামান্য অর্থ ব্যয় করবেন। এটা আমি আশা করব।’’