Type Here to Get Search Results !

ঝাড়খন্ডে 'ভগবান কানাইয়েশ্বরের' প্রকৃত কাহিনী

 ধর্মকথা 


 ঝাড়খন্ডে 'ভগবান কানাইয়েশ্বরের' প্রকৃত কাহিনী 



  ভগবান কানাইয়েশ্বর। দুর্গম পথ পেরিয়ে পাহাড়ে উঠে সেই ‘ভগবান’কে পুজো দিতে পুণ্যার্থীদের ঢল। আসলে এ পুজো প্রকৃতির উদ্দেশে, পাহাড়কে দেবতা জ্ঞানে অর্ঘ্যদান। পশ্চিমবঙ্গ-ঝাড়খণ্ড সীমানার কানাইসর পাহাড়ই আসলে ‘ভগবান কানাইয়েশ্বর’। সপ্তাহান্তে অর্থাৎ শনি ও রবিবার, দু’দিন ধরে এখানেই অনুষ্ঠিত হল ঐতিহ্যবাহী পাহাড় পুজো ও মেলা। ঝাড়গ্রাম জেলার বেলপাহাড়ি ব্লকের অন্তর্গত পাহাড়ের উত্তরাংশ এবং ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম জেলার চাকুলিয়া এলাকার দক্ষিণাংশ জুড়ে চলে এই শতাব্দীপ্রাচীন লোকউৎসব। আস্ত একটি পাহাড়কেই দেবতা জ্ঞানে পুজো করার এই বিরল লোকাচার এখনও দেখা যায় এখানে। অংশ নিলেন পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের হাজার হাজার মানুষ। ওড়িশা থেকেও বহু ভক্ত ও দর্শনার্থী যোগ দেন। আষাঢ় মাসের তৃতীয় শনিবার ভোর থেকে পাহাড়ের গা বেয়ে ‘ভগবান কানাইয়েশ্বর’-এর উদ্দেশে পুজো দিতে ওঠেন ভক্তরা। পোড়ামাটির হাতি-ঘোড়া, সিঁদুর, নৈবেদ্য-সহ নানা পূজাসামগ্রী নিবেদন করে মানত শোধ করেন তাঁরা। পাহাড়ের পাদদেশ ও উপরের সমতল অংশে বসে বিশাল মেলা। 


  বংশানুক্রমে স্থানীয় ‘মাল’ সম্প্রদায়ের ‘লায়া’ বা ‘দেহুরী’রাই পুজোর সমস্ত আচার সম্পন্ন করেন। রবিবার আদিবাসী সম্প্রদায়ের বিশেষ আচার-অনুষ্ঠানকে ঘিরে ফের সরগরম হয়ে ওঠে কানাইসর। সকাল থেকেই বিভিন্ন গ্রাম থেকে আদিবাসী যুবক-যুবতীরা মেলায় জড়ো হন। মাদল, বাঁশি ও সাঁওতালি গানের তালে মুখর হয়ে ওঠে পাহাড়-জঙ্গল। ছাগল ও মোরগ বলির পর সেখানেই রান্না করে প্রসাদ গ্রহণের প্রাচীন রীতিও পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিনপুরের বিধায়ক প্রণত টুডু। ঝাড়গ্রামের লোকসংস্কৃতি গবেষক বিধান দেবনাথ বলেন, ‘‘কানাইসর পাহাড় পুজো কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি প্রকৃতি-উপাসনা, কৃষিনির্ভর জীবন, লোকবিশ্বাস এবং পাহাড়-অরণ্যকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এক অনন্য লোক ঐতিহ্য। বহু শতাব্দী ধরে পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার মানুষের মিলনক্ষেত্র হিসেবে এই পুজো নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ধরে রেখেছে।”

Tags

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.