ধর্মকথা
হিন্দুধর্মের পুজো-পার্বনে সাধারণভাবে সৈন্ধব লবণ ব্যবহার করা হয়। - কিন্তু কেন?
এক কথায় বলা যায় হিন্দু পুরাণ বিশ্বাস করে সৈন্ধব লবণ অনেক শুদ্ধ ও পবিত্র। সারা বছর সব বাড়িতে সাদা নুনের ব্যবহার দেখা যায়। কিন্তু নবরাত্রির উপবাস, কালীপুজো বা শিবের পুজোয় অনেক বনেদি বাড়িতেই পুজোর রান্নায় সৈন্ধব লবণ ব্যবহার করা হয়। অনেকেই আবার ব্রতের দিনগুলো সাদা লবন স্পর্শ করে না। শুধুই কি ঠাকুমা-দিদিমাদের আমল থেকে চলে আসা প্রথা, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে গভীর কোনও বিজ্ঞান ও শাস্ত্রীয় কারণ? উত্তরটা কিন্তু বেশ চমকপ্রদ! ধর্মশাস্ত্রে বলা হয়েছে, উপবাস পালনের মূল উদ্দেশ্য শুধু সারাদিন না খেয়ে থাকা নয়, বরং নিজের শরীর আর মনকে একদম ভেজালহীন ও শুদ্ধ রাখা। এবার ভাবুন তো, সৈন্ধব লবণ কীভাবে তৈরি হয়? এটি পাওয়া যায় সরাসরি হিমালয়ের পাথর বা খনি থেকে।
প্রকৃতি এটাকে ঠিক যেভাবে উপহার দেয়, আমরা সেভাবেই পাতে তুলে নিই। না এটাকে রিফাইন করার জন্য কোনও কারখানায় ছুটতে হয়, আর না মেশাতে হয় কোনও কৃত্রিম কেমিক্যাল। তাই শাস্ত্রে এই অবিকৃত লবণকে ‘সাত্ত্বিক’ বা সবচেয়ে পবিত্র খাদ্যের তকমা দেওয়া হয়েছে। এবার আসা যাক আমাদের রোজকার সাদা লবণের গল্পে। সমুদ্রের জল বাষ্পীভূত করে এই লবণ তৈরি হয়। তবে গল্পটা এখানেই শেষ নয়। বাজারজাত করার আগে কারখানায় একে চকচকে করতে নানা রকম কেমিক্যাল ও প্রিজারভেটিভ মেশানো হয়। তা ছাড়া শাস্ত্রীয় দৃষ্টিকোণ থেকে মনে করা হয়, সমুদ্রের জল থেকে লবণ বের করার সময় অজস্র অনুজীবের প্রাণহানি ঘটে। তাই এই প্রক্রিয়াজাত সাদা লবণকে ব্রতের জন্য মোটেই উপযুক্ত মনে করা হয় না।
