রাজা সেন চলে গেলেন দিকশূন্যপুরে তাঁর অজস্র নিদর্শন ফেলে
শেষ পর্যন্ত বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক রাজা সেন আমাদের ছেড়ে ছেলে গেলেন রবিবার দুপুরে। রেখে গেলেন তাঁর অমূল্য অনেক সৃষ্টি। রবিবার ছুটির দিনে জীবন থেকে ছুটি নিলেন প্রবীণ পরিচালক রাজা সেন। তাঁর রেখে যাওয়া মুকুটে রয়েছে তিন দশকের বেশি সময় ধরে সৃষ্টি করা নানা মণি-মুক্তের কারুকাজ। দামু, দেশ, ল্যাবরেটরি, আদর্শ হিন্দু হোটেল, আরোগ্য নিকেতন এমন কত হিরে-মতি খচিত রত্ন দিয়ে গেলেন বাংলা সিনেমাকে। রাজা সেন এমন এক দুর্লভ পরিচালক যাঁর বিচরণ শিশু থেকে বৃদ্ধ মনে। তাঁর প্রথম সিনেমা দামু বাঙালির মননে গভীর আঁচড় রেখেছে আজও। অভিষেকেই তিনি পেয়েছিলেন জাতীয় পুরস্কার। রাজার মুকুটে এও এক উজ্বল পালক। আজ আর লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের ব্যস্ততা আর নেই। রুপোলি পর্দার জন্য আর কোনও দিন নতুন করে ফ্রেম সাজাবেন না তিনি।
'দামু’ ছবির কাণ্ডারী আর নেই! সব ব্যস্ততা, সব কোলাহল সরিয়ে রেখে জীবনের সেট থেকে চিরকালের মতো বিদায় নিলেন প্রবীণ পরিচালক রাজা সেন। সম্প্রতি পরপর দু’বার হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। এরপর এসএসকেএম হাসপাতালে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু শেষরক্ষা আর হল না। রবিবার হাসপাতালেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। স্ত্রী পাপিয়া সেন, দুই মেয়ে শুভশ্রী ও শ্রেয়সী এবং নাতনি মিশকা ও জুয়ানাকে একা ফেলে দিকশূন্যপুরে পাড়ি দিলেন তিনি। তাঁর এই চিরবিদায়ের নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে এক দীর্ঘ যন্ত্রণার গল্প। বছর খানেক আগে ‘মায়ামৃদঙ্গ’ সিনেমার শুটিং সেটে আচমকাই পড়ে গিয়ে কোমরে মারাত্মক চোট পেয়েছিলেন তিনি। শিল্পের তাগিদে নিজের সেই ব্যথাকে হয়তো সেদিন তেমন গুরুত্ব দেননি। আর সেটাই কাল হল। দশ বছর আগেকার এক পুরনো সমস্যা সেসময়েই বড় আকারে থাবা বসায় পরিচালকের শরীরে। সেই অবহেলারই চরম মাশুল গুনতে হয়েছে তাঁকে। তারপর থেকেই স্বাভাবিকভাবে হাঁটতেও তাঁর তীব্র কষ্ট হত। গত ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁর একটি বড়সড় অস্ত্রোপচারও হয়েছিল। সবাই ভেবেছিলেন, তিনি হয়তো ঠিক ঘুরে দাঁড়াবেন। কিন্তু সাময়িক আশা জাগিয়েও শেষমেশ পরিস্থিতি চরম আকার নেয়। চিকিৎসকদের সব আপ্রাণ চেষ্টা ব্যর্থ করে চিরতরে চোখ বুজলেন পরিচালক।