তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক ও ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বভাবিক মৃত্যু
সকালেই মৃত্যুর খবর দিতে আমাদের ইচ্ছে করে না। কিন্তু সত্যি খবর পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। রামপুরহাটের প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রবিবার সকালে রামপুরহাট শহরে নিজের বাড়ি লাগোয়া কার্যালয় থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে কার্যালয়ের জানলা দিয়ে তাঁর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান বলে জানা গিয়েছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রামপুরহাট থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার হয়েছে। পাঁচবারের বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় রামপুরহাট কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপক ছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্বও পালন করেছেন।
বামফ্রন্ট আমল থেকেই সক্রিয় রাজনীতিতে ছিলেন তিনি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে খবর, মৃত্যুর আগের দিন অর্থাৎ শনিবারও বেশ কয়েকজন দলীয় নেতা-কর্মীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রামপুরহাট কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী ধ্রুব সাহার কাছে পরাজিত হন তিনি। ভোটে হারের পর সক্রিয় রাজনীতি থেকে কিছুটা নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। তবে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয় এবং পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। ২০০১ সালে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে প্রথমবার রামপুরহাট বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০০৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যজুড়ে বামেদের দাপট থাকলেও রামপুরহাট আসন ধরে রাখতে সক্ষম হন তিনি। এরপর ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও জয় পান আশিস। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকারে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান তিনি।