দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে কমিউনিস্টদের ভূমিকা তুলে ধরলো সিপিএম
এমনিতেই কমিউনিস্টদের দেশবিরোধী, দেশদ্রোহী বলে তকমা লাগিয়ে দিয়েছে বিজেপি। কমিউনিস্টদের স্পষ্ট বক্তব্য আন্দামান সেলুলার জেলে যে বিপ্লবীরা বন্দি ছিলেন, তাদের অধিকাংশ কমিনিস্ট। একজনও কিন্তু জনসংঘের লোক নেই। সেই বিতর্কের মধ্যে না গিয়ে এবার দেশজুড়ে গেরুয়া শক্তি আকাশচুম্বী হতেই কমিউনিস্টদের ‘দেশদ্রোহী’ বলে দাগিয়ে দেওয়ার রাজনৈতিক প্রচেষ্টার পালটা বয়ান হিসেবেই এই প্রদর্শনীকে দেখছে সিপিএম। ঋত্বিক সদনের প্রবেশপথে সেই ইতিহাসই যেন ছবিতে ছবিতে কথা বলছে। সেখানে জায়গা পেয়েছেন মেজর জয়পাল সিং, সরোজ মুখোপাধ্যায়, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, গণেশ ঘোষ, কল্পনা দত্ত, মাস্টারদা সূর্য সেন, এ কে গোপালন, হরকিষেণ সিং সুরজিৎ, মুজফ্ফর আহমদ, লক্ষ্মী সেহগল, চন্দ্রশেখর আজাদ, আশফাকুল্লা খান, ভগৎ সিং, পি সি জোশি, এম এন রায়-সহ বহু পরিচিত ও বিস্মৃত মুখ।
তালিকাটি নিছক কোনও রাজনৈতিক দলের নেতাদের তালিকা নয়। বরং স্বাধীনতার লড়াইয়ের বহুস্রোতকে এক ফ্রেমে ধরার চেষ্টা! কেউ সশস্ত্র বিপ্লবের পথ বেছেছিলেন, কেউ শ্রমিক-কৃষকের সংগঠন গড়েছিলেন, কেউ কারাগারে বছরের পর বছর কাটিয়েছেন, কেউ স্বাধীনতার পরও সামাজিক-অর্থনৈতিক সমতার লড়াইয়ে যুক্ত থেকেছেন। গণেশ ঘোষের মতো বিপ্লবী, যিনি চট্টগ্রামের বিপ্লবী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পরবর্তী জীবনে কমিউনিস্ট আন্দোলনে সক্রিয় হন, সেই ধারাবাহিকতার অন্যতম প্রতীক। আর সেই কারণেই প্রদর্শনীর দেওয়ালে পাশাপাশি এসে দাঁড়িয়েছে বিপ্লবী জাতীয়তাবাদ ও কমিউনিস্ট রাজনীতির দুই ভিন্ন স্রোত।