চার হাজার টাকার ইলিশ মাছ চুরি করে পালালো এক বৃদ্ধা
'চোর' বললেও কমই বলা হয়। ডাকাতিও ঠিক নয়। কারণ, বড় ইলিশ মাছ হাতাতে কোনও জোরজবরদস্তিও ছিল না। কিন্তু কথার কৌশলে ভরা বাজারে সকলের চোখের সামনে দিয়ে সেই কাজটাই করলেন বৃদ্ধা ক্রেতা! মধ্যমগ্রামের (Madhyamgram) বাজারে নতুন ‘মাছচোর’-এর কীর্তিতে চোখ কপালে বিক্রেতাদের। তাঁদের চোখে ধুলো দিয়ে হাজার চারেক টাকার ইলিশ নিয়ে চলে গেলেন, তাতে তাঁরাও বলছেন, ‘‘বয়স্ক ভদ্রমহিলা এমন সুন্দরভাবে ঠকিয়ে দেবেন, ভাবিইনি।” ইলিশ চুরি নিয়ে অবশ্য এখনও থানা-পুলিশ করেননি ক্ষতিগ্রস্ত মাছ ব্যবসায়ী। আর ‘চোর’কেও এলাকায় দেখা যায়নি। ঘটনা বুধবার দুপুরের। মধ্যমগ্রাম কালীবাড়ির বাজারটি দুপুর পর্যন্ত খোলা থাকে। দুপুর ১টার পর এক বয়স্ক ভদ্রমহিলা মাছের বাজারে গিয়ে ইলিশ দরদাম করছিলেন। প্রসেনজিৎ বিশ্বাস নামে এক মাছ বিক্রেতার থেকে বড় সাইজের ইলিশ মাছ কিনতে চান। সেইমতো একটি দেড় কেজির ইলিশ পছন্দ করেন। যার দাম দাঁড়ায় প্রায় ৩৮০০ টাকা।
ভদ্রমহিলা মাছ বিক্রেতাকে জানান, তাঁর কাছে সেই মুহূর্তে নগদ এত টাকা নেই। সামনেই তাঁর দোকান ও বাড়ি। প্রসেনজিৎ তাঁর সঙ্গে কাউকে পাঠালেই তিনি টাকাটা দিয়ে দেবেন। বৃদ্ধার কথায় ভরসা করে তাঁকে দেড় কেজির ইলিশটি কেটে দিয়ে দেন প্রসেনজিৎ। সঙ্গে বাজারের এক ছেলেকে পাঠান মাছ বিক্রির টাকা আনতে। এরপর আবার বৃদ্ধা আবদার করেন, রিক্সাভাড়ার কিছু টাকা যেন তাঁকে দেন প্রসেনজিৎ। বাড়ি পৌঁছে মাছের দামের সঙ্গেই সেই টাকাও মিটিয়ে দেবেন। তা শুনে ২০০ টাকা তাঁকে ধার হিসেবে দেন মাছ বিক্রেতা। বৃদ্ধা বাজার থেকে বেরিয়ে ওই ছেলেটিকে সঙ্গে নিয়ে চেনা একজনের রিক্সায় ওঠেন। কিছু দূর যাওয়ার পর বৃদ্ধা মহিলা জানান, কালীবাড়ির বিপরীতে মধ্যমগ্রাম টিম্বারে তাঁর একটু কাজ আছে। ততক্ষণ বাজারের ওই ছেলেটি যেন বাদু রোডের একটি কাপড়ের দোকান থেকে মোট ৪ হাজার টাকা নিয়ে নেয়। বৃদ্ধা এও বলেন, কার থেকে টাকা নিতে হবে, তা তিনি ফোনে বলে দিচ্ছেন। তা শুনে রিক্সা থেকে নেমে ওই ছেলেটি বৃদ্ধার কথামতো বাদু রোডের সেই ঠিকানায় পৌঁছন। কিন্তু গিয়ে দেখেন, কোনও কাপড়ের দোকান নেই। তখন তিনি বুঝে যান যে প্রতারিত হয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে হন্তদন্ত হয়ে তিনি ভদ্রমহিলার বলা মধ্যমগ্রাম (Madhyamgram) টিম্বারে যান, ততক্ষণে ভদ্রমহিলা ইলিশ মাছ নিয়ে কেটে পড়েছেন! তন্নতন্ন করে খুঁজেও বৃদ্ধাকে কোথাও পাওয়া যায়নি।