আন্তর্জাতিক
'নেপাল ইজ কলিং' - বার্তা নিয়ে সামনে এগিয়ে আসলো নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড
বিধ্বস্ত নেপাল। হাজার মৃত্যুর খবর ইতিমধ্যে পাওয়া গেছে। এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ। শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর তালিকা কোথায় শেষ হবে তা এখনও বলা যাচ্ছে না। নেপালের মূল অর্থনীতি নির্ভর করে ট্যুরিজম বোর্ডের উপর। এবার তারাই সাহায্যর আবেদন নিয়ে এগিয়ে আসলো। পর্যকদের বোর্ডের আবেদন, ‘আপনাদের ভ্রমণ স্থানীয় মানুষদের সহায়তা করে, জীবিকা সচল রাখে এবং ঘুরে দাঁড়ানোর ও এগিয়ে যাওয়ার পথে জনগোষ্ঠীকে শক্তি জোগায়।’ এই কঠিন সময়ে বিশ্বের কাছে নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের সহজ বার্তা, ‘নেপাল বন্ধ হয়ে যায়নি। আমাদের বন্ধু, বিশ্বব্যাপী পর্যটকদের প্রতি আমাদের বার্তা—এই কঠিন সময়ে আপনাদের ভ্রমণ কেবল সাধারণ সফরের চেয়েও বেশি কিছু। এটি সংহতির নিদর্শন হয়ে থাকবে। মঙ্গলবার বোর্ডের তরফে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে নেপাল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মানুষের জীবনযাত্রা, ঘরবাড়ি ও ব্যবসা-বাণিজ্য থমকে গিয়েছে। জীবিকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেকের প্রতি এবং যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সহায়তা ও নেপালকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করছেন, তাঁদের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সংহতি রইল।
কিছু এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও নেপালের অধিকাংশ জায়গার জীবনযাত্রা, কাজকর্ম, ভ্রমণ এবং পর্যটকদের স্বাগত জানানোর প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রয়েছে। বোর্ডের তরফে জানানো হয়েছে, সংস্কৃতি, পর্যটন ও বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি বিশেষ ‘কুইক রেসপন্স টিম’ কাজ করছে। এছাড়াও সময়মতো তথ্য, সহায়তা ও সেবা প্রদানের লক্ষ্যে পর্যটন বিভাগ, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডে একটি ‘পর্যটক তথ্য কেন্দ্র’ খোলা হয়েছে। তাই এখন নেপালের পাশে দাঁড়ানোর সময়। এখন নেপাল ভ্রমণের সময়। নেপাল সেই আহ্বান জানাচ্ছে। নেপালে মৃত্যুর সংখ্যা ইতিমধ্যেই হাজার ছাড়িয়েছে। প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ। মৃত্যুর সংখ্যা কোথায় থামবে, সেই বিষয়ে কেউই কিছু আন্দাজ পাচ্ছেন না। জানা যাচ্ছে, নেপালের পূর্ব, মধ্য ও পশ্চিম দিকের জেলাগুলিতে নতুন করে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সেই সঙ্গেই নিকটবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে নুয়াকোট ও রাসুয়া জেলায় হড়পা বান ধেয়ে আসতে পারে। এছাড়াও তাপলেজুং, শঙ্খুয়াসভা, সোলুখুম্বু, খোটাং, ওখালধুঙ্গা, রামেচাপ-সহ বেশ কয়েকটি জেলায় জলস্তর বৃদ্ধি এবং আকস্মিক বন্যার মাঝারি ঝুঁকি রয়েছে। পশ্চিম নেপালে, সতর্কতা রয়েছে গোর্খা, লামজুং, ডলপা, রুকুম পূর্ব, রুকুম পশ্চিম ইত্যাদিতে। সব মিলিয়ে বাড়ছে আতঙ্ক।