আমেরিকার কাছে কোনো কারণেই মাথা নোয়াব না - রাষ্ট্রসংঙ্ঘের মঞ্চে জানিয়ে দিলেন ইরান
এক দিকে ট্রাম্প একের পর এক হুমকি দিয়ে চলেছে ইরানকে। এমন কি তিনি একথাও বলেছেন, দরকার হলে তিনি ইরানকে ধ্বংস করে দেবেন। ট্রাম্পের এই হুমকিকে পাত্তা দিতে রাজী না ইরান। হাজারো আঘাতের মাঝেও অক্ষত। মার্কিন হুমকি, একের পর এক ভয়ংকর হামলার পরও যুদ্ধে মাথা নোয়াতে নারাজ ইরান। বুধবার রাষ্ট্রসংঘের ভরা মঞ্চে দাঁড়িয়ে তা বুঝিয়ে দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেস্কিয়ান। শুধু তাই নয়, আমেরিকাকে চ্যালেঞ্জও করলেন তিনি। এদিন রাষ্ট্রসংঘে ভাষণ দিতে গিয়ে পেজেস্কিয়ান বলেন, “আমরা সন্ত্রাসবাদী নই। আমরা কেবল নিজেদের আত্মরক্ষা করেছি। আমাদের দেশের উপর আমেরিকা ও ইজরায়েল কাপুরুষোচিত হামলা চালিয়েছে। আগ্রাসনের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে আমাদের নিরীহ জনগণ। তাই আমরা সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে নিজেদের রক্ষা করেছি।” তিনি আরও বলেন, “হুমকি নস্যাৎ করতে ইরানকে শক্তিশালী হতে হবে। তবে তেহরান তার শক্তিকে আধিপত্য বিস্তারের কাজে ব্যবহার করতে চায় না। আমাদের উপর হামলা হলে তার জবাব আমরা দেব।”
পেজেস্কিয়ান এ-ও জানিয়ে দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীকে ‘আগ্রাসন’-এর কাজে ব্যবহার করতে দেবে না ইরান। আন্তর্জাতিক আইনকে সম্মান না করার জন্য আমেরিকার সমালোচনায় সরব হন পেজেস্কিয়ান। একইসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, “ইরান কখনই মাথা নত করবে না। কোনও চাপের কাছে নতিস্বীকার করবে না।”এদিকে মঙ্গলবার রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে ইরানকে হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প। বলেন, “হয় শান্তিচুক্তি হবে অথবা ইরানকে নরকে পাঠাব। ইসলামি প্রজাতন্ত্রটিকে নিশ্চিহ্ন করে দেবো। এবং তা করব দ্রুত – যাতে তারা আর কখনওই মানুষ ও দেশকে হত্যা ও ধ্বংস করার সুযোগ না পায়।” এরপর বুধবার সকালে রাষ্ট্রসংঘে ট্রাম্পের দূতের সঙ্গে ৩ ঘণ্টার বৈঠক সারেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘাচি। জানা গিয়েছে, যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা হয় দু’জনের। হরমুজ প্রণালী খুলতে আমেরিকাকে শর্তও দেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে আমেরিকাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ল তেহরান।