পর্যটক বিমুখ মৌসুনি দ্বীপ
বেহাল রাস্তার জেরে ধুঁকছে পর্যটন ব্যবসা, সমস্যায় স্থানীয় বাসিন্দারাও
মৌসুনি দ্বীপ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা:
বর্ষার সমুদ্রের রূপ দেখতে যখন দীঘা, পুরী কিংবা বকখালিতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়, তখন কার্যত পর্যটকশূন্য দক্ষিণ ২৪ পরগনার অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র মৌসুনি দ্বীপ।
প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য, সমুদ্রের ঢেউ আর নিরিবিলি পরিবেশ—সবই রয়েছে। কিন্তু পর্যটকদের মৌসুনি থেকে দূরে রাখছে একটি বড় সমস্যা—বেহাল যোগাযোগ ব্যবস্থা।
সমুদ্রের ধারে অবস্থিত একাধিক হোটেল, ক্যাম্প ও রিসোর্টে পৌঁছনোর রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত খারাপ বলে অভিযোগ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের। বৃষ্টির কারণে দ্বীপের অভ্যন্তরের একাধিক পাকা রাস্তাও কার্যত চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। কোথাও বড় বড় গর্ত, কোথাও রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে কাদামাটির পথ।
বিশেষ করে বারোশোল এলাকায় রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত করুণ বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, এই রাস্তা দিয়ে সাইকেল বা ছোট যানবাহন নিয়েও চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
হোটেল ও রিসোর্ট মালিকদের অভিযোগ, রাস্তা সংস্কারের বিষয়ে বারবার প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত স্থায়ী সমাধান হয়নি। পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে বারোশোল এলাকার একটি বীচ ক্যানভাস নামক রিসোর্টের মালিক মুখ্যমন্ত্রী ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্তৃপক্ষের কাছেও অভিযোগ জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
রাস্তার এই দুরবস্থার সরাসরি প্রভাব পড়ছে মৌসুনির পর্যটন ব্যবসায়। পর্যটক কমে যাওয়ায় আর্থিক সমস্যার মুখে পড়েছেন স্থানীয় হোটেল, রিসোর্ট ও পর্যটন-নির্ভর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষজন।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই পর্যটনকেন্দ্রকে যদি পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে হয়, তাহলে প্রথমেই কি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি জরুরি নয়?
প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং রাস্তা সংস্কারের দাবি এখন জোরালো হচ্ছে মৌসুনি দ্বীপে।