আন্তর্জাতিক
এবার ব্রিকসে যোগ দিতে চাহিদা পাকিস্তান - সমর্থন জানালো চিন
এই মুহূর্তে বিশ্বের তাবড় রাষ্ট্রনেতারা প্রায় সকলেই ভারতে। ভারতে শুরু হয়েছে ব্রিকস সম্মেলন। বস্তুত বিশ্বের উদীয়মান মহাশক্তিধর দেশগুলির এই সম্মেলনের কেন্দ্রবিন্দুত্ব একপ্রকার নয়াদিল্লি। অথচ দিল্লিতে যখন এ হেন মহাযজ্ঞ চলছে, তখন ভারতের দুই প্রতিবেশী বাংলাদেশ ও পাকিস্তান কার্যত অন্ধকারে। দুই দেশের কেউই ব্রিকসের সদস্য নয়।এদের মধ্যে পাকিস্তান (Pakistan) ৩ বছর ধরে ব্রিকসে যোগ দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সূত্রের দাবি, সেই ২০২৩ সালেই ব্রিকস জোটে যোগ দিতে আবেদন জানায় পাকিস্তান। এই মুহূর্তে ব্রিকসে যোগ দেওয়ার জন্য ২৯টি দেশের আবেদনপত্র ঝুলে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পাকিস্তানও। সূত্র বলছে, পাকিস্তানের ব্রিকসে সংযুক্তিতে সায় রয়েছে চিনের। ইসলামাবাদ রাশিয়ারও সাহায্য চেয়েছিল। যদিও ২০২৩ সালের সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায় নয়াদিল্লির আপত্তিতেই। ব্রিকস সম্মেলনভুক্ত দেশগুলির মধ্যে নয়াদিল্লির ভেটো ক্ষমতা রয়েছে। সেই ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়েই পাকিস্তানের ব্রিকসে ঢোকা আটকেছে ভারত।
২০২৩ সালে শেষবার ব্রিকসের সম্প্রসারণ হয়েছে। সেবার ছ’টি দেশকে ব্রিকসে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সেই তালিকায় রয়েছে আর্জেন্টিনা, ইরান, সৌদি আরব, মিশর, ইথিওপিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহী। ওই দেশগুলির অন্তর্ভুক্তির ফলে এই মুহূর্তে ব্রিকস ভুক্ত দেশগুলির কাছে বিশ্বের ৪৯ শতাংশ জনবসতি রয়েছে। মোট অর্থনীতির ৪০ শতাংশ এই দেশগুলির নিয়ন্ত্রণে। ফলে ব্রিকস বিশ্ব বাণিজ্যের নিরিখে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গোষ্ঠী। পাকিস্তান নিজেদের অর্থনৈতিক দুরবস্থা কাটাতে ব্রিকসের মঞ্চকে ব্যবহার করতে চাইছিল। এই মুহূর্তে পাকিস্তানের জিডিপি বৃদ্ধির হার মাত্র ৩,৭০ শতাংশ। এই জোটের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। BRICS সদস্য দেশগুলিতে ভারতের রফতানি ৪৮.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬৪.৩ বিলিয়ন ডলার থেকে ৯৫.৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে গিয়েছে। পাকিস্তানও চাইছে, একই পথে বাণিজ্য বাড়াতে। কিন্তু সে গুঁড়ে বালি। নয়াদিল্লি কোনওভাবেই পাকিস্তানের যোগ মানবে না।