হৃদয়ে কৃষ্ণপ্রেমের জন্ম হওয়া আসলে প্রকৃত সিদ্ধিলাভ
সামনেই জন্মষ্টমী। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর জন্মষ্টমী। সেইদিন কৃষ্ণপ্রেমে মাতহারা হয়ে উঠবে সমস্ত ভারত। শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল মধ্যরাতে, এক কারাগারে, এমন এক সময়ে যখন ভয় ও অন্যায় সমাজকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল। অথচ সেই অন্ধকার রাতই হয়ে উঠেছিল পরম এক মুহূর্ত, যখন পরমেশ্বর ভগবান আবির্ভূত হয়েছিলেন। এটিই জন্মাষ্টমীর চিরন্তন তাৎপর্য। যখন অন্ধকার সবচেয়ে গভীর মনে হয় এবং মানুষের সকল সম্ভাবনা ম্লান হয়ে আসে, তখন আবির্ভূত হন স্বয়ং পরমেশ্বর। কংসের অত্যাচারের মধ্যে দেবকী ও বসুদেবের ঘরে শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল। তাঁর জন্মের সঙ্গে ছিল না কোনও পার্থিব আরাম বা নিরাপত্তা। বরং তা ঘটেছিল বিপদ ও অনিশ্চয়তার মধ্যেই। অথচ সেই কারাগার থেকেই শুরু হয়েছিল এমন এক যাত্রা, যা সহস্রাব্দ ধরে ভারতের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক কল্পনাকে রূপ দিয়েছে এবং মানবতার জন্য এমন এক বার্তা রেখে গেছে, যার অনুরণন আজও রয়েছে।
শ্রীকৃষ্ণের জীবন শিক্ষা দেয় যে কেবল শক্তি দিয়ে অশুভকে পরাজিত করা যায় না; এর জন্য প্রয়োজন সাহস, জ্ঞান ও ধর্মনিষ্ঠা। কুরুক্ষেত্রের রণাঙ্গনে তিনি অর্জুনকে তাঁর কর্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন এবং ভয় বা ফলের প্রতি আসক্তিতে পক্ষাঘাতগ্রস্ত না হয়ে স্বচ্ছতা ও স্থিরতার সঙ্গে কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ কেবল ভগবদ্গীতার শিক্ষক নন। তিনি বৃন্দাবনের কৃষ্ণ—যশোদার সন্তান, গোপবালকদের বন্ধু এবং তাঁর ভক্তদের প্রিয়তম। এখানেই কৃষ্ণের সবচেয়ে অন্তরঙ্গ রূপ প্রকাশ পায়। কৃষ্ণপ্রেম—শ্রীকৃষ্ণের প্রতি নির্মল প্রেম—ভক্তের হৃদয়।