Type Here to Get Search Results !

আদিশক্তির অপর নাম দুর্গা কেন?

 ধর্মকথা


আদিশক্তির অপর নাম দুর্গা কেন?



  বাঙালির আবেগ ও আরাধনায় যিনি মহিষাসুরমর্দিনী, পুরাণের পাতায় তিনিই ধরা দেন নানা রূপে। সংসারের মহাসমুদ্র পার করার কাণ্ডারী হিসেবে ভক্তহৃদয়ে দেবীর আগমন ঘটে দুর্গতিনাশিনী রূপে। কিন্তু কখনও আমরা ভেবে দেখেছি কি দেবীর নাম 'দুর্গা' হল কেন? বাঙালির শরৎকালীন আরাধনায় যিনি পূজিতা, তিনি মূলত মহিষাসুরমর্দিনী চণ্ডী। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের বিখ্যাত স্তোত্রপাঠে ‘নমশ্চণ্ডিকায়ৈ’ মন্ত্রে সেই মহামায়ারই আবাহন ঘটে। তবে শ্রীশ্রীচণ্ডীর সাতশো শ্লোক সম্বলিত ‘দেবীমাহাত্ম্য’ গ্রন্থটি কালক্রমে ‘দুর্গাসপ্তশতী’ নামে প্রসিদ্ধ লাভ করে। এইভাবেই মহিষাসুরমর্দিনী রূপটির সঙ্গে দুর্গা নামটি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়ে।

পুরাণমতে, মহিষাসুরমর্দিনী ও দুর্গমাসুরনাশিনী দেবীর আবির্ভাবের কাল ও উদ্দেশ্য আলাদা। স্বায়ম্ভুব মন্বন্তরে হিমালয় অঞ্চলে মহিষাসুর বধের জন্য মহিষাসুরমর্দিনীর আবির্ভাব হয়। অপরদিকে, বৈবস্বত মন্বন্তরে বিন্ধ্য পর্বতে দুর্গমাসুর হরণের জন্য অবতীর্ণ হন দুর্গা। এই রূপের সঙ্গে শাকম্ভরী ও শতাক্ষী দেবীর মহিমান্বিত লীলাও গভীরভাবে যুক্ত।


  মানবজাতি সর্বদাই সব সংকট ও ভয় থেকে মুক্তি কামনা করে। এই আকুল প্রার্থনা থেকেই ‘দুর্গা’ নামের সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা। ‘দুর্গ’ শব্দের আদি অর্থ হল গভীর বিপদ বা দুর্গম পরিস্থিতি। যিনি সেই মহাবিঘ্ন থেকে ভক্তকে পরম যত্নে ত্রাণ করেন, তিনিই জগজ্জননী দুর্গা। প্রাচীন অভিধান ‘শব্দকল্পদ্রুম’ অনুযায়ী, দুর্গা নামের অর্থ অত্যন্ত ব্যাপক। এখানে ‘দুর্গ’ শব্দের অর্থ শুধু অসুর নয়, বরং তা কুকর্ম, দুঃখ, নরক ও সাংসারিক বাঁধনকেও নির্দেশ করে। দেবীর কাজই হল জীবের অন্তরের ও বাইরের এসব পাপ এবং অশান্তি সম্পূর্ণ বিনাশ করা।

Tags

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.