ঝাড়গ্রামের মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা ম্যাঙ্গানিজের ভাণ্ডার - ঝাড়গ্রামের অর্থনীতি খুলে যেতে পারে
এমনিতেই জঙ্গলে ভরা ঝাড়গ্রাম আর্থিক দিক দিয়ে অনেকটাই পিছিয়ে আছে। যাদের আর্থিক বিকাশের জন্য সচেষ্ট সরকার। সেই সময় তাদের সামনে দরজা খুলে দিলো মাটির তলায় সঞ্চিত খনিজ পদার্থ। অশোকনগরে
তেলসম্পদের সন্ধানের পর এবার পশ্চিমবঙ্গের খনিজ মানচিত্রে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত ঝাড়গ্রামে। জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় ম্যাঙ্গানিজের সম্ভাব্য মজুতের সন্ধানে শুরু হতে চলেছে যৌথ অনুসন্ধান সমীক্ষা। সরকারি উদ্যোগে সিমুলপাল, বেগুনডিহা সহ আশপাশের ম্যাঙ্গানিজ সমৃদ্ধ এলাকাগুলিকে সমীক্ষার আওতায় আনা হয়েছে। এই অঞ্চলে ঠিক কতটা ম্যাঙ্গানিজের মজুত রয়েছে এবং তা ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনের উপযোগী কি না, তা খতিয়ে দেখবে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১৫ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে অনুসন্ধান চালাবে ভারতীয় ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা, পশ্চিমবঙ্গ খনিজ উন্নয়ন ও বাণিজ্য নিগম। ভূতাত্ত্বিক তথ্য সংগ্রহ, মাটির ও শিলার নমুনা পরীক্ষা এবং ম্যাঙ্গানিজের বিস্তৃতি ও সম্ভাব্য মজুত সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে এই নির্ধারিত সময়ে।
ঝাড়গ্রামের এই উদ্যোগকে রাজ্যের খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসাবে দেখা হচ্ছে। অশোকনগরের তেলসম্পদের সম্ভাবনার পর এবার জঙ্গলমহলের মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা ম্যাঙ্গানিজের ভাণ্ডার সামনে এলে রাজ্যের শিল্প ও খনিজ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে প্রাথমিক অনুসন্ধানের ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত মজুতের পরিমাণ বা বাণিজ্যিক সম্ভাবনা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। আগামী দিনের বিস্তারিত ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা ও পরীক্ষার ফলাফলের উপরই নির্ভর করবে ঝাড়গ্রামে ম্যাঙ্গানিজ উত্তোলনের ভবিষ্যৎ। স্থানীয়ভাবে এই উদ্যোগ ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।